একই পরিবারের ছয়জন হলেন- প্রাইভেটকারে থাকা হাসিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার (২৭), সন্তান তাকিয়া (সাড়ে চার বছর), তাহমিদ (৮ মাস), সদ্য বিবাহিত ইমরান (২৬) ও তার স্ত্রী
নিপা (২২)। তাদের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামে।
সদর হাসপাতালে নিহত নাহিদার বোন তরিকা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি সাংগর গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে।
.png)
তরিকা আক্তার জানান, দুপুর দেড়টার দিকে সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রাইভেটকারে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় তারা সবাই মারা যান। নিহত নারীরা তরিকার আপন বোন এবং বোনজামাই।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার দিকে রাজাপুরের দিক থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক গাবখান ব্রিজ থেকে নামার সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় টোল প্লাজায় অবস্থানরত একটি প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে খাদে পড়ে ট্রাকটি। ট্রাকের ক্ষতি কম হলেও প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান। এছাড়া এ ঘটনায় ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহত ছয়জনের নাম-পরিচয় জানা গেলেও, অন্যদের জানা যায়নি।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, গাবখান ব্রিজ টোল প্লাজায় ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও অটোকে নিয়ে খাদে পড়ে। টোলে দায়িত্বরত কর্মীসহ অনেকজন হতাহত হন। এতে ঘটনাস্থলে শিশুসহ ১১ জন ও হাসপাতালে তিনজন মারা যান।
এদিকে, ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহতের পরিবারের জন্য ৫ লাখ টাকা, যারা পঙ্গুত্বের শিকার হবেন তাদের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং আহতদের জন্য ১ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।