জাহাজে চড়ে ২১ নাবিকের চট্টগ্রাম ফিরতে সময় লাগবে মাসখানেক। অপর দুই নাবিক রওনা দেবেন জাহাজটি আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছানোর পর পরই। সোমবার জাহাজটি সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন এস আর শিপিং এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম।
.png)
তিনি বলেন, ২৩ নাবিকের মধ্যে শুধু দুজন ফিরবেন আকাশপথে। বাকিরা আল হামরিয়া বন্দরে কয়লা খালাস শেষ করে জাহাজটি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসবেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাবিকরা।
মেহেরুল করিম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নাবিকরা জাহাজে আরো মাসের বেশি সময় থাকার কথা। কিন্তু যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে, সে হিসেবে নাবিকদের মতামত ও উভয়পক্ষের আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এস আর শিপিং এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জাহাজটি আল হামরিয়া বন্দরে পণ্য খালাস এবং নতুন করে পণ্য বোঝাই করতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১৬ দিন। সেখান থেকে রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে সমুদ্রযাত্রায় লাগবে আরো ১০দিন। সে হিসেবে পরিবারের কাছে ফিরতে মাসখানেক সময় লাগবে ২১ নাবিকের। এছাড়া অন্য জাহাজে বা আকাশপথে আসতে চাইলে ভিসাসহ নানা জটিলতা আছে। এসব সম্পন্ন করতে গেলে অনেক সময় লাগবে।
বুধবার এডেন উপসাগর পার হয়ে আরব সাগরের ইয়ামেন ও ওমানের দিকে যাচ্ছে এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন নাবিকরা।
মঙ্গলবার জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে জাহাজটির চারপাশে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। এছাড়া ফের জলদস্যুরা হানা দিলে যাতে উচ্চচাপে পানি ছিটানো যায়, সেজন্য জাহাজের ডেকে বসানো হয়েছে হাই প্রেসার ফায়ার হোস। পুনরায় কোনো বিপদ ঘটলে নাবিকরা যাতে জাহাজে সুরক্ষিত স্থানে লুকাতে পারেন, সেজন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ‘সিটাডেল’(জাহাজের গোপন কুঠুরি)।
মেহেরুল করিম বলেন, সোমালিয়ার যে উপকূল থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছে, সেটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছি। কাঁটাতারের বেষ্টনী যুক্ত করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সব জাহাজে এমন প্রস্তুতি থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অতিক্রমের সময় আমরা সেটি ব্যবহার করি। সেদিন আমাদের জাহাজটি হাইরিস্ক এরিয়ার বাইরে ছিল। সোমালিয়ার উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল রিস্কি এলাকা। তখন আমরা ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিলাম। তাই আর্ম গার্ড নেইনি আমরা।
গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন পর শনিবার বিকেলে মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে জাহাজ ছেড়ে নয়টি বোটে চলে যায় ৬৫ জলদস্যু। এরপর মধ্যরাতে ২৩ নাবিক নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
এর আগে, ২০১০ সালে জলদস্যুর কবলে পড়ে একই গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি জাহান মণি। তিন মাস পর মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি ফিরিয়ে আনে তারা।