ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেড় কোটির সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৪:৩২, ১২ এপ্রিল ২০২৪
দেড় কোটির সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক
দেড় কোটির সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

*সেতু নির্মাণ করেও দুর্ভোগ কাটেনি এলাকাবাসীর
*১০ মাসেও হয়নি অ্যাপ্রোচ নির্মাণ
*কাজে আসছে না নবনির্মিত সেতু

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের (পুরাতন বাজার) তরকারি বাজার সংলগ্ন খালের ওপর এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে প্রায় ১০ মাস আগে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ নির্মাণ না হওয়ায় কোনো উপকারে আসছে না সাধারণ জনগণের। সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) নির্মাণ না করায় বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে সেতু নির্মাণের পরেও যাতায়াতে দুর্ভোগ কাটেনি এলাকাবাসীর।

Advertisement

বাজারের ব্যবসাযী ও ক্রেতারা জানান, সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের আশা ছিল জনভোগান্তি দূর হবে। বরং এখন উল্টো তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেক সময় কোমলমতি শিশুরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ কারো সাহায্য ছাড়া সেতুতে উঠতে পারছে না। আবার কারো সাহায্য নিয়ে পার হতে খুব কষ্ট হয়। সেতুর দুই পাড়েই রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অফিস।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দেড় কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। ফলে কাঁচাবাজারে মালামাল নিয়ে অনেক দূরের পথ ঘুরে কষ্ট করে আসতে হচ্ছে। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। খালটির উভয় পাশে রয়েছে পিচঢালা পাকা রাস্তা কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ক্রেতারা বাজার করে রিকশা বা ভ্যানে চড়ে বাড়ি যেতে পারছেন না। চলাচলের যোগ্য পুরাতন সেতু ভেঙে ঐ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের শুরু থেকে প্রায় দুই বছর ধরে এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।

দেড় কোটির সেতুতে নেই সংযোগ সড়কস্থানীয় ভুক্তভোগী শিক্ষক ছগির মৃধা জানান, সেতুটির দক্ষিণ পাড়ে কাঁচা বাজারসহ উভয় পাড়ে স্থায়ী মার্কেট থাকায় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেতুটি দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

বাজারে আসা উপজেলা সদরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সেতু নির্মাণের দুই বছর পার হলেও এখনো তৈরি হয়নি সেতুর দু’পাশে চলাচলের রাস্তা। এতে সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন না দুইপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।

ভ্যানচালক জমির উদ্দীন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেয়া করতে খুবই কষ্ট হয়। এত টাকার সেতু এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে সেতুটির ঠিকাদার রেজাউল করিম (জিএস জাকির) বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর ডিজাইনের প্রয়োজন রয়েছে। ডিজাইন পেলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক শিগগিরই নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!