ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খননের পরও খালটি সরু নালা, বরাদ্দের টাকা লুটপাট

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৫:০০, ৩ এপ্রিল ২০২৪
খননের পরও খালটি সরু নালা, বরাদ্দের টাকা লুটপাট
খাল যেন সরু নালা

ঝালকাঠির রাজাপুরে দুই কিলোমিটার খাল খননে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সঠিকভাবে খাল খনন না করে বরাদ্দের টাকা লুটপাটের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। মাত্র দুই হাজার ২৫ মিটার দৈর্ঘের খালটি খননের জন্য ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করে এলজিইডি বিভাগ।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের হাইলকাঠি পাইত্রাকান্দা এলাকার কালিখোলা থেকে শুরু করে ডহর শঙ্কর আঙ্কেল মার্কেট পর্যন্ত ২ হাজার ২৫ মিটার খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। কার্যাদেশ পেয়েছে আদিব এন্টারপ্রাইজ। জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়েছে। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে জুন মাস পর্যন্ত। নকশা অনুযায়ী খালটি ১৬ ফিট গভীর করে উপরিভাগে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট এবং তলদেশে ৪.৯২ ফুট চওড়া করে খনন করার কথা। তবে বেশিরভাগ জায়গায় ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর করে খাল খনন করা হয়েছে। তলদেশে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট এবং উপরিভাগে ২০ থেকে ২৫ ফুটের বেশি চওড়া করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আরো ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। অথচ খনন শেষে দেখা গেছে, এ যেন খাল নয়, সরু নালা!

স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল হক জানান, আগের থেকেও খালটি ছোট করে কাটা হচ্ছে। ঠিকাদার চরম অনিয়ম করেছে। যেটুকু আছে, সেটিও বর্ষার পর পলিতে ভরাট হয়ে যাবে। এছাড়া ধানের জমির মধ্যের খাল হওয়ায় চাষবাদের মৌসুমে মঈ ও পলিমাটি নেমে এক মৌসুমেই ভরাট হয়ে যাবে। ফলে খালটি কোনো কাজেই আসবে না এলাকাবাসীর। লাভবান হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

Advertisement

খাল যেন সরু নালা

স্থানীয় আলমগীর খান বলেন, নিচে ৩ সাড়ে তিন ফুট কেটেছে। ভালোভাবে খনন না করে পেটের মাটি ভেকু দিয়ে চেপে দিয়েছি, যা রোদে ফেটে গেছে। ফলে ভেঙে পড়তে শুরু করছে পাড়। সরকার খাল কাটার বরাদ্দের টাকা জনগণের উপকারে আসবে না। যেটুকু কাটা হচ্ছে তা কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টি ও মাঠের পলিতে ভরাট হয়ে যাবে। উল্টো খাল খননের নামে বহু পরিবারের গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঠিকভাবে খাল খননের দাবি জানান তিনি। 

স্থানীয় বারেক, কালাম, কবির, নান্নু, সজল ও সুমন অভিযোগ করেন, খালটি সঠিকভাবে কাটা হয়নি, অনেক কম কেটেছে। নিয়ম অনুযায়ী কাটলে হয়তো কয়েক বছর যেত। কিন্তু সঠিকভাবে না কাটায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ভরাট হয়ে যাবে। এছাড়া খালের পেটের মাটি কেটে উঠিয়ে না ফেলায় সব ভেঙে খালের মধ্যে পড়বে। কয়েকদিন পর বর্ষা শুরু হবে, তখন আর পানির মধ্যে মাটি থাকলেও দেখা যাবে না। 

খাল যেন সরু নালাখনন কাজ বরাদ্দ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আদিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার সরোয়ার হাসান জানান, এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষে হওয়ার পর কথা বলা যাবে। বরং স্থানীয় লোকজন খাল কাটতে দেয় না, যতটুকু মাটি কাটা খাল কাটা দরকার তা কাটতে দিচ্ছে না। তাদের গাছ, জমি ও রাস্তা দাবি করে খনন কাজে বাধা দেয়। বিষয়টি অফিসকেও জানানো হয়েছে। এত বাধার পরেও খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়মানুয়ায়ী খনন করা হবে, কোনো রকম অনিয়ম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। 

তিনি আরো বলেন, খনন করা শেষে মাপ দিয়ে দেখা হবে, কোথাও কম বেশি হলে তা ঠিক করে খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। বরিশাল থেকে লোক এসে মাপ দিয়ে দিয়েছে, সে অনুয়ায়ী খনন করা হচ্ছে। 

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, খননকাজ শেষে অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!