ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাটিরাঙ্গায় কয়েকগুণ বেড়েছে কলার দাম

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) 
প্রকাশিত: ১২:৪২, ৩১ মার্চ ২০২৪
মাটিরাঙ্গায় কয়েকগুণ বেড়েছে কলার দাম
সারি সারি কলার ছড়া

রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কলার দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কলা পুষ্ট না হতেই অপরিপক্ব কলা নিয়ে আসেন বাজারে। 

মাটিরাঙ্গায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কলা আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৫৩০ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার ৭৮৩ মেট্রিকটন। 

তাছাড়া পাহাড়ের কলা ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় সারাদেশে এর চাহিদা ব্যাপক। চিনি চাম্পা কলার তুলানায় দেশি বাংলা কলা অনেক মিষ্টি, সুস্বাদু এবং দেখতে খুব সুন্দর হয়। বিধায় এই কলার বেশ চাহিদা রয়েছে। খেজুরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হওয়াতে ইফতারে কলার চাহিদা বেড়েছে, তাই সে সুযোগে দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। 

Advertisement

তাছাড়া সেহরি এবং ইফতারকে সামনে রেখে বিশুদ্ধ এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রতি মনোযোগ দেয় সকলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খেজুরের পাশাপাশি কলার চাহিদাও বেড়ে যায় অনেক। সারাদেশের খেজুরের চাহিদা পূরণ করতে যেমন বিভিন্ন দেশ থেকে খেজুর আমদানি করতে হয়। তেমনি সারাদেশের কলার চাহিদা পূরণ করতে মাটিরাঙ্গা তথা পার্বত্য অঞ্চলের কলাই প্রধান ভরসা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে বসবাসরত  সকলেই সবচেয়ে বেশি কলা চাষ করে থাকেন। সারাবছর উৎপাদনের পাশাপাশি রমজানের কলার চাহিদা পূরণে তারা রমজান মাসকেই বেশি প্রাধান্য দেয় যাতে বেশি লাভেই কলা বিক্রয় করা যায়। রমজানের কলার এই চাহিদা পূরণে ক্রেতারা বেশ চড়া দামেই কৃষকদের নিকট থেকে কলা ক্রয় করে থাকেন৷ 

মাটিরাঙ্গায় সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি কলার ছড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে কলা। দাম বেড়েছে অনেক, প্রতিটি চিনি চাম্পা কলা আগে যার দাম দুইশ টাকা ছিল সেটা বেড়ে হচ্ছে পাঁচশ টাকা। প্রতিটি বাংলা কলার আগে যার দাম ছিল ছয়শ টাকা সেটির দাম বেড়ে এখন ১৩শ’ টাকা বিক্রি করা হয়। 

গাড়িতে সাজানো হচ্ছে কলার ছড়া

এদিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড় বাজার শনিবার এ দিনে মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পরিমাণে কলা নিয়ে আসেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষক নিজেদের টিলা ভূমিতে উৎপাদিত কলা নিয়া আসেন। পাশাপাশি অনেকে আবার কলার বাগান কিনে ওই বাগান থেকে কলা সংগ্রহ করে বাজারে কলা নিয়া আসেন বিক্রি করতে। এসব কলা পণ্যবাহী ট্রাকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকাসহ সারাদেশে নিয়ে যায়। রমজান ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেড়ে যায় কলার দাম। ফলে কলার চাষিরা অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজানে কলার দাম কয়েকগুন বেশি দাম পায়। 

কলা ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, আগের চেয়ে এখন দ্বিগুণ দামে কলা কিনতে হচ্ছে। আমরা বাড়তি দামে বিক্রি করতে না পারলে লাভ করতে পারব না। অবশ্য, দাম বাড়লেও কলার চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে যে পরিমাণে কলা বিক্রি হতো, এখন তারচেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, বাজারে কলার আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে যাতায়াত এবং শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলার উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলার দামও বেড়েছে। এখন এই ব্যবসায় পুঁজি বেশি লাভ কম।

কলা ব্যবসায়ী কাজল মিয়া বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে নরসিংদী থেকে এখান থেকে কলা ক্রয় করে থাকি। পাহাড়ের কলার চাহিদা বেশি থাকলেও বাজার দখলে রয়েছে অপরিপক্ব কলায়। রমজানে মাসে আমি এক হাজার কলার ছড়ি কিনেছি। তবে শহরে কলার দাম কমতে শুরু করলেও মাটিরাঙ্গায় দাম বেশি।

ইজারাদার প্রতিনিধি হজরত আলী বলেন, বানরের আক্রমণ এবং ঝড়ের কারণে কলা গাছের ক্ষতি হয় বেশি। মাটিরাঙ্গা থেকে প্রতিটি কলার ছড়া ৪ টাকা করে টোল নেয়া হয়। সপ্তাহে সাতটি গাড়ি লোড হয়। প্রতি গাড়িতে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০টি কলার ছড়া থাকে। 

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী জানান, সমতল বা স্যাঁতস্যাতে মাটিতে কলার ভালো ফলন হয় না। পাহাড়ের মাটিতে এসব কলা আপনা আপনিই বেড়ে ওঠে। তেমন পরিচর্যার ও প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কলা চারার আশপাশে জঙ্গল পরিষ্কারসহ মরা পাতা ও অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলে দিলেই হয়। এটি অনেক লাভজনক ফল। এটি চাষে কোনো কৃষকের লোকসান গুনতে হয় না। তবে অপরিপক্ব কলা সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!