এরপর থেকে তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। আর সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে ১০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা। মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। টাকা পাঠাতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়ও।
বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা পাঠাতে চাপ দেন অপহরণকারীরা। টাকা না পাঠালে একজনকে হত্যা করা হবে বলেও জানান তারা। এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপহৃতদের স্বজনরা।
.png)
অপহৃতরা হলেন- আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যম গহিরা বাচা মিয়া মাঝির ঘাট এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ ওয়াসিম, একই এলাকার মোজাহের মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন, আবদুর রহিমের ছেলে জাবেদুর রহিম ও জেবল হোসেনের ছেলে নাঈম উদ্দিন।
অপহৃতদের স্বজনরা জানান, গত দুই মাস আগে স্থানীয় কয়েকজনকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ার হাসপাতালে চাকরি দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন গহিরা এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম। এতে ওয়াসিম, বোরহান, জাবেদ ও নাঈম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জনপ্রতি চার লাখ ২০ হাজার করে জহিরুল ইসলামকে মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে বের হন তারা।
প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় তাদের দুবাই নিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মিজান তিন দিন পর তাদের সবার পাসপোর্ট নিয়ে নেন। সাত দিন পর দুবাই থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে তাদের অন্য দালালের হাতে বিক্রি করে দেন মিজান।
স্বজনরা আরো জানান, লিবিয়ায় মাসখানেক কিছু কাজ করানোর পর গত সোমবার তাদের বন্দি করে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার পরিবার ও স্বজনদের কাছে কয়েকটি নির্যাতনের ভিডিও ও অডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় ১০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা। টাকা প্রদানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চকরিয়া শাখার একটি ব্যাংক হিসাব নম্বর দেন তারা।
বর্তমানে লিবিয়ার একটি গোপন স্থানে বন্দি অবস্থায় দিন পার করছেন চার যুবক। টাকা পেলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান অপহরণকারীরা। দুদিন ধরে তাদের নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে স্বজনদের কাছে।
অপহৃত জাবেদুর রহিমের বাবা আবদুর রহিম বলেন, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার সব দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। সেখানে ছেলে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এখন ১০ লাখ টাকা দিলেই ছেলেকে ফেরত দেবে বলে জানাচ্ছে অপরণকারীরা। আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
বোরহান উদ্দিনের ভাই সাহাব উদ্দিন বলেন, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে চারজনের জন্য চার লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। বিকেল থেকে আমার মোবাইলে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কয়েকবার ফোন করেছে টাকার জন্য। তাদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও পাঠাচ্ছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।