ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আত্মগোপনে ২২ বছর, অবশেষে ধরা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩২, ২৭ মার্চ ২০২৪
আত্মগোপনে ২২ বছর, অবশেষে ধরা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউসিয়া মার্কেট সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকা থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তসলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।  মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার তসলিম উদ্দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন ২২ বছর। তিনি দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার দুবলিয়া এলাকার আমিজ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, ২০০০ সালে দিনাজপুরের খানসামা থানার খামারপাড়া ইউনিয়নে ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ নামের একটি এনজিওতে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতেন তসলিম উদ্দিন। তার অধীনে ভিকটিম এনজিও থেকে নিয়োগকৃত শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি করতেন বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই কর্মসূচির আওতায় ভিকটিম ও তসলিম উদ্দিন চাকরি করায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

Advertisement

একপর্যায়ে  তসলিম ও ভিকটিমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গেলে একপর্যায়ে আসামি তসলিম ভিকটিমকে নানাভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে প্রলুব্ধ করে। ওই শিক্ষিকাকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে ওই শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।  

এ ঘটনার পর তসলিম প্রতারণা করে ভিকটিমকে তার সঙ্গে একান্তে যোগাযোগ করতে বলে। এরপর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করায়। ওইসময় ভিকটিম ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।  

পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকা ও তার পরিবার বাধ্য হয়ে তসলিমের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণসহ ভ্রণ নষ্ট করার অপরাধে পেনাল কোডের ৩১৩ ধারায় দিনাজপুর জেলার খানসামা থানায় একটি মামলা করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আসামি তসলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

তবে মামলার পর থেকেই আসামি তসলিম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। পরে গ্রেফতার এড়াতে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন।  

আসামি তসলিম কখনো গাজীপুরে ভ্যান চালিয়ে, কখনো মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করে, আবার কখনো এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন।  গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাশিমপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে নামে-বেনামে প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায় তসলিম। এরপর সেখানে গাউছিয়া বাজারের ফলপট্টিতে একটি ফলের আড়তে তরমুজ ব্যবসা শুরু করেন। অবশেষে ২২ বছর পর গোপন তথ্যে অভিযান চালিয়ে তসলিমকে গ্রেফদার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!