ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মিয়ানমার সীমান্তে ফের গোলাগুলি ও মর্টারশেলের বিকট শব্দ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২৫ মার্চ ২০২৪
মিয়ানমার সীমান্তে ফের গোলাগুলি ও মর্টারশেলের বিকট শব্দ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনদিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘাত ফের বেড়েছে। রোববার রাত থেকে আবারো মর্টারশেল ও গুলির শব্দ ভেসে আসছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে।

মংডু টাউনশিপের উত্তরের বেশকয়েকটি গ্রাম থেকে রোববার রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মর্টার শেল, গ্রেনেড ও বোমার পাশাপাশি যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দও পেয়েছেন টেকনাফ সীমান্তের বসবাসকারী বাসিন্দারা। এর আগের তিনদিন সীমান্তের ওপার থেকে এমন শব্দ শোনা যায়নি।

নাফনদীর তীরে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তের ১৩টি গ্রাম এবং পাশের আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, শালবাগান ও জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে ভোররাতের পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ওপারে বিস্ফোরণ বন্ধ ছিল।

Advertisement

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, মংডু টাউনশিপের উত্তরে কাওয়ারবিল, নাকপুরা,বলিবাজার, পেরাংপুরুসসহ কয়েকটি গ্রামে রোববার রাতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত চলমান রয়েছে। এসব এলাকায় দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা ও পাল্টা হামলা করে যাচ্ছে।

টানা দেড় মাসের বেশি সময় ধরে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। এরই মধ্যে মংডু টাউনশিপের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের রাচিডং টাউনশিপসহ ১০টির বেশি থানা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে টিকতে না পারে সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৭জন বিজিপি সদস্য। সবাই নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে ১১ বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) হেফাজতে রয়েছেন।

হোয়াইক্যং সীমান্তের বসবাসকারী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, রোববার রাত থেকে নাফনদের ওপার থেকে ভারী গোলার শব্দ ভেসে আসছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। মনে হচ্ছে মাটি খুঁড়ে কেউ নিয়ে যাচ্ছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্যদিনের তুলনার আজা ভারী বিকট শব্দ ।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ রোববার রাত ১০টা থেকে ওপারে মর্টার শেল ও গ্রেনেডের বিস্ফোরণ শুনতে পাওয়া গেছে। তাতে এপারের হ্নীলা ইউনিয়নের রাখাইনপল্লি চৌধুরীপাড়া, ফুলের ডেইল, পুরানবাজার, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার,হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী, নয়াবাজার, মিনাবাজার, কাঞ্জর পাড়া, ঝিমংখালী, উনচিপ্রাং,লম্বাবিলসহ অন্তত ১৩টি গ্রামে এমন বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। রাত তিনটা পর্যন্ত এমন ১২১টির বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এপারের লোকজন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, রাখাইন রাজ্যে বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটলেও টেকনাফ সীমান্তের প্রতিটি গ্রামে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অধিনায়ক মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। রোববার পর্যন্ত নতুন করে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!