ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বন বিভাগের গাফিলতিতে নষ্ট হচ্ছে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ২০ মার্চ ২০২৪
বন বিভাগের গাফিলতিতে নষ্ট হচ্ছে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাজুরতলা থেকে শিমুলতলা জুরকাঠি সড়ক নির্মাণে দুই পাশের সারি সারি গাছগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলেছে। ফলে রাস্তার দুই ধারে পড়ে থাকা গাছগুলো রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। গাছগুলো বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি সম্পদ।

জানা গেছে, রাস্তা নির্মাণে গত বছরের মার্চের ৬ তারিখ গাছ অপসারণের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের বরাবর চিঠি দেন নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী। বনবিভাগ ৪১৪টি ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মার্কিং করে। যথা সময়ে গাছগুলো না সরানোর কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। বর্তমানে সেগুলো রাস্তার পাশে জমিতে ও খালে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন বিভাগের গাফিলতির কারণে এভাবেই শত শত গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো এখনো যদি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়, তাহলে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। এভাবে সরকারি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা আমরা মানতে পারছি না।

Advertisement

তারা আরো বলেন, বন বিভাগের অবহেলার কারণে এমনটা হচ্ছে। মার্কিং করে যাওয়ার পর তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই। সড়ক প্রশস্তকরণে ঠিকাদারের কাজের মেয়াদ শুরু হওয়ায় উপায়ন্তর না  পেয়ে রাস্তার ঠিকাদার এক্সকেভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলে কাজ শুরু করেন। এদিকে, উপড়ে ফেলা অধিকাংশ গাছ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশনলছিটি উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. সহিদ উদ্দিন বলেন, এলজিইডি থেকে আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠি দেওয়ার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। কিন্তু গাছ মার্কিং করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর রিপোর্ট দেওয়া লাগবে। এরপর টেন্ডার হয়ে গাছগুলো অপসারণ করা হবে। কিন্তু সেসময় আমাদের রিপোর্ট না দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কারণ গাছ টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি বারবার তাদের চিঠি দিয়েছি। গাছগুলো সংগ্রহ করতে অনেক খরচের ব্যাপার। আমাদের যদি সরকারি বাজেট দেয় তাহলে গাছগুলো সংগ্রহ করতে পারবো।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দ্রুত সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এর আগে, যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ছিলেন, তিনি বর্তমানে নেই। নতুন যিনি এসেছেন তার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!