চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়ে। হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কয়েক হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৫২ জন চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে গত ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আবেদনকারী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই-বাচাইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ-২০২৪ এর কার্যক্রম। পরে তিন ধাপে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই বাছাই শেষে গত ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা।
.png)
বুধবার সকালে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সকাল ১০ টায় মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেন। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৮ জন তরুণী ও ৪৪ জন তরুণ প্রার্থীকে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। বুধবার রাত ৯ টায় নির্বাচিত ৫২ জন তরুণ-তরুণীর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন।
এ সময় এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র অনিয়ম হয়নি। কোনো ধরনের তদবির বাণিজ্য ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ ভাবে, শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগে ১২০ টাকার বাইরে কারো একটি টাকাও কাউকে দিতে হয়নি। এ সময় তিনি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সবাইকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
এদিকে, জনপ্রতি মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে চাকরি লাভ করায় খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেন তরুণ-তরুণী। অনেকেই আবেগ-প্রবণ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে অনেকের অভিভাবক পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হাসিবুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহফুজা আক্তার শিমুল, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) মো. শহিদুল হক মুন্সি প্রমুখ।