জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর (এলজিইডি) বাস্তবায়নে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের উত্তর জুরকাঠি বিলের বাড়ি খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেয় ব্রিজটিতে । এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে দেখা দেয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। তাই তড়িঘড়ি করে সেতুর দৃশ্যমান ফাঁটলে সিমেন্টের লেপন দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ব্রিজের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর ও উপ সহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম।
কবির হোসেন হাওলাদার, আব্দুল রাজ্জাক,মজিবুর রহমান, জামাল হাওলাদার শিউলি বেগম, পারুল বেগম, সাজেদা বেগম নামে একাধিক স্থানীয়রা বলেন, মাত্র ১ থেকে দেড় মাস আগে এই ব্রিজটি করা হয়েছে। আমরা যখন মাটি কেটে ভরাট শুরু করেছি তখনই ফাটল দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো কাজ, কোনো কাজের মধ্যেই পড়ে না। ব্রিজটি যদি মজবুত না হয় তাহলে এ ব্রিজ করে লাভ কি? আমরা চাই এ ব্রিজ ভেঙে সংস্কার করে দেওয়া হোক।
.png)
ওই এলাকার জহিরুদ্দিন বলেন, আগে যে ব্রিজটি ছিলো তা দিয়েই আমাদের চলতো। আরো একযুগেও ব্রিজটির কিছু হতো না। ঠিকাদারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এলজিইডি ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ কাজের বরাদ্দ দেয়। সেই কাজে ঠিকাদার খাল চুরির ন্যায় দায়সারা কাজ করেছে। এজন্যই ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই ফাটল ধরেছে।
যাতায়াতকারীরা জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। আগের ব্রিজের থেকে বর্তমানের নতুন ব্রিজের উচ্চতা ও প্রশস্ততা অনেক বেশি। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের জমিরও ক্ষতি হয়েছে অনেক।
ঠিকাদার ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তাকে দেয়নি কোনো ক্ষতিপূরণও। দরিদ্র পরিবারের জমির ক্ষতিপূরণ না পেয়ে অভিশাপের নিঃশ্বাস ছাড়ছে। ব্রিজের ফাটল মেরামত না করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপ-ঠিকাদার রুবেল বলেন, এটি ফাটল নয়। এতে তেমন ক্ষতি হবে না। এটিকে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে।
নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন,প্যাকেজ প্রজেক্টে বরাদ্দের মাধ্যমে কাজ হয়েছে। ব্রিজে একটু সমস্যা হয়েছে শুনতে পেরে ঠিকাদারকে সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছি। যদি সমাধান না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের বাজেট কত ছিলো তা জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা।