২০০৫ সালে উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বরংগাইল গ্রামে ৩৯ শতাংশ জমির ওপর এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠা করেন জান্নাতুল বাকি কবরস্থান। বরংগাইল, সিঙ্গারডাক, কলাগাড়িয়াসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামের মৃত ব্যক্তিদের এখানে দাফন করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ শতাধিক মৃত মানুষকে এখানে কবর দেওয়া হয়েছে। এদিকে, কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কবরস্থানের চারপাশ। শনিবার রাতের কোনো এসময়ে খোঁড়া হয় ২২টি কবর। যাদের কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়েছে সেই কবরের পাশেই বসে বিলাপ করছেন স্বজনেরা। জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের বেশ কয়েকটি কবরের পাশে খোঁড়া দেখা গেছে। যেসব কবরগুলোকে খোঁড়া হয়েছে তার সবগুলো বেড়া ভাঙা দেখা গেছে। কঙ্কাল চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
.png)
জরিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে জনি মারা গেছে ৬ মাস আগে। আমি প্রতিদিন কবরস্থানে আসি। আজ সকালে কবর জিয়ারত করার সময় দেখতে পাই কবরের ওপর নতুন মাটি এবং পাশে হাড়গোড় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষদের জানালে তারা এসে দেখতে পান অনেকগুলো কবর খোঁড়া।
স্থানীয় রহমত আলী বলেন, ‘কবরেও এখন মানুষের শান্তি নেই। মারা যাওয়ার পরও যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে বলার কিছু থাকে না। আজ যাদের কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেছে তাদের কষ্ট আরো বেশি। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, দেওয়া হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। তাহলেই এমন কাজ দেশে বন্ধ হয়ে যাবে।’
জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘এক মহিলা আজ ছেলের কবর জিয়ারত করার সময় দেখতে পান কবরের ওপর নতুন মাটি এবং পাশে হাড়গোড় পড়ে আছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসি। সেখানে ঘুরে দেখতে পাই মোট ২২টি কবর খোঁড়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কবর পূর্ণাঙ্গভাবে খোঁড়া আর বাকিগুলো আংশিক খুঁড়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে কবর থেকে কয়টি কঙ্কাল চুরি হয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ দুর্বৃত্তরা সেগুলো আবার মাটিচাপা দিয়ে গেছে।’
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহবুব বলেন, বিষয়টি অনেক বেদনাদায়ক। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িতে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগেও শিবালয় উপজেলার উথলী, বড় বোয়ালী, ধূলন্ডী গ্রামের কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর।