কিন্তু এখন সেইসব স্মৃতি ও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে বকেয়া টাকা দিতে সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে হাজির হন তিনি। জীবনে যতবার বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করেছেন, তার সব হিসাব করে আগের ট্রেন ভ্রমণ বাবদ ১০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। ঘটনাটি রেলওয়ে অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
মো. মানিক ভূঁইয়া দেবগ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি ইতালি প্রবাসী। প্রবাসে যাওয়ার আগে তিনি বড় বাজারে এলুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি তিনি হজ পালন করেন।
.png)
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তার বোধোদয় হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে।
দেবগ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা মো. আল-আমীন জানান, ওই ব্যক্তি দেশে থেকে ব্যবসা করার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ভৈরবসহ বিভিন্নস্থানে নিয়মিত যাতায়ত করতেন। কখনো ট্রেনের টিকিট কাটতেন কখনো কাটতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনা থেকে এখন তিনি একসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। আমি যতটুকু জানি তিনি একজন সৎ মানুষ। সৎভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন। কেউ মনে কষ্ট পাবেন এমন কাজ তিনি কখনো করেননি। কারো কাছে এক টাকা ঋণ থাকলেও তাকে খুঁজে বের করে পরিশোধ করার চেষ্টা করেন।
মানিক ভূঁইয়া বলেন, যতো ভালো কাজ করি না কেন, এই দেনার দায় তো কোনো পূণ্য দিয়ে শোধ করার উপায় নেই। তাই সরাসরি রেলের খাতেই জমা দিয়ে দিলাম। জানি না তাতে আমার দায় মুক্তি হবে কি না। তবে এখন অনেকটাই মানসিক প্রশান্তি লাগছে।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী মো. সাজ্জাদুল কবির জানান, সন্ধ্যায় স্টেশন কাউন্টারে এক ব্যক্তি আসেন বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের টাকা পরিশোধ করতে। ওই সময় তিনি জানান, আগে বিভিন্ন সময়ে টিকিট না কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন। ওই সময়ের কিছু আনুমানিক হিসাব তার কাছে রয়েছে। সে হিসাবে তিনি কাউন্টারে এসে ১০ হাজার টাকা রেলওয়েকে দিয়েছেন। মানিক ভূঁইয়া নতুন প্রজন্মকে একটি শিক্ষা দিয়ে গেলেন যে রেলে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা অন্যায়।