বিকেল থেকে চত্বরে দ্রুত ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার আগেই মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ভিড়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। মেলায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শকরা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও মেলায় আসছেন।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে গিয়ে দেখা যায়, পাঠকরা সবাই বেশ উৎসুক। কেউ বই কিনছেন, কেউবা বইয়ের পাতা উল্টে দেখছেন। আবার অনেকে বই কিনে প্রিয় মানুষদের উপহার দিচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা জমতে দেখা যায়। অনেকেই বই উল্টেপাল্টে দেখছিলেন। সন্ধ্যা গড়ালে বেড়ে ওঠে বিক্রয় কর্মীদের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে অমর একুশে বইমেলার চিরচেনা রূপটা দেখা গেছে।
.png)
কবি ও লেখক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর ফেনীতে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এতে আমরা আনন্দিত। এখানে লেখক-পাঠকের সম্মিলন ঘটছে। মেলাটি প্রতি বছর বড় পরিসরে আয়োজন করে ১৫ দিনব্যাপী করা যেতে পারে। ব্যাপক প্রচারণা চালালে প্রত্যন্ত গ্রামের পাঠকরাও মেলায় আসবে। তাদের প্রিয় লেখকের বইগুলো সংগ্রহ করবে। লেখকদের মাঝে নতুন নতুন বই প্রকাশের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
মেলায় আগত পাঠক সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফেনীতে আবার বইমেলা চালু হওয়ায় পাঠকরা খুবই উজ্জীবিত।
কোহিনুর লাইব্রেরির হোসেন মজুমদার বলেন, বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে। পাঠক আসছে এবং বই নিচ্ছে।
ভাটিয়াল প্রকাশনের আলমগীর মাসুদ জানান, ফেনীতে বই মেলা হচ্ছে এটাই আনন্দের। পাঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের কাছে এ মেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাঠক এখানে এসে বই দেখেন, বই ক্রয় করেন। এজন্য এ বই মেলা প্রতিবছর যেন আয়োজন করা হয়।
ঢাকা থেকে আসা সাহিত্যদেশ’র মিল্লাত আল জিসাদ বলেন, ফেনীতে বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। ঢাকায় অনেকে শুধু ছবি তোলে। এখানে ছবি তোলার চেয়ে পাঠক বেশি। এটা দেখে আমার ভালো লাগছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে এ মেলা ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। পাশাপাশি ফেনীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রতিদিন চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলায় অংশ নিয়েছে ১৫টি স্টল।