আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেবীকে গ্রেফতার করা হলেও তাকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রতিবারেই বেরিয়ে নতুন করে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা।
বেবী ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। কেউ মুখ খুললে তার আর রেহাই নেই। প্রতিবাদকারীর ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। নয়তবা তাকে উল্টো মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে মাদককারকারী বেবী চক্রটি।
.png)
২০০৯ সালে মাদক মামলায় বেবীকে ৬ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ২০১৩ সালে মাদক মামলায় ৩০ বছর কারাদণ্ড হয়। একই বছরে মাদকের আরেকটি মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। ২০১৬ সালে মাদক মামলায় ৩০ বছর কারাদণ্ড হয়। ২০১৭ সালে ২ বছর কারাদণ্ড হয়।
এদিকে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদি শ্বশান এলাকায় বেবী বেগম ও তার ছেলেদের মাদক ব্যবসায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় আবির নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনার পরপরই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আহত আবিরকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবির ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত নতুন বাজার এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছে বেবী ও তার সহযোগীরা। এ বিষয়ের প্রতিবাদ করায় আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মাদক কারবারীরা।
জানা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আবির ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসে। হঠাৎ বেবীর ভাড়া করা বাবুগঞ্জের একাধিক মামলার আসামি সোপান শরীফ, তারেক, আরিফসহ আরো ৪-৫ অজ্ঞাত হামলাকারী আবিরের ওপর ধারালো অস্ত্র হিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা আবিরকে হত্যা করার উদ্দেশ্য পেটে ও হাতের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রধারা কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। ঘটনার পরপরই বগুড়া রোড ফাঁড়ির এএস আই কামরুল ঘটনাস্থলে সংবাদ পেয়ে আসে। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানায় সংবাদ দিলে সেখান খেকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় আহত অবস্থায় আবির থানায় ছুটে গেলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আরিচুল রহমান আবিরকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠায়।
আবিরের বাবা হারুন অর রসিদ বলেন, এ ব্যাপারে মামলার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ওসি আরিচুল রহমান বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নতুন বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় এরইমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।