মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শহিদদের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসছে।
.png)
সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সুর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে ৬ টার পরেই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মোহা. মেহেদী হাসান, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সভাপতি নাট্যকার কচি খন্দকারসহ অন্যান্য অতিথিরা।
সঙ্গে সঙ্গে কয়েকশ স্বেচ্চাসেবক মোমবাতি জ্বালানোর কাজে নেমে পড়েন মাঠ জুড়ে। একে একে জ্বলে ওঠে লাখো মোমবাতি। সন্ধ্যায় নেমে আসা অন্ধকার দূর করে পুরো মাঠ মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। আলোয় ফুটে ওঠে শহিদ মিনার, বাংলা বর্ণমালা ও বিভিন্ন ধরনের আল্পনা।
একই সময়ে মাঠের দক্ষিণপ্রান্তে মঞ্চ থেকে সববেত কণ্ঠে ভেসে ওঠে ‘আমার ভায়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ সহ ঘণ্টাব্যাপি গণসংগীত। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ নড়াইলের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
এদিকে শহিদ স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন দেখতে এসে ভীষণ খুশি ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্র আহনাফ। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি সে। লাখো মোমবাতি এক সঙ্গে জ্বলতে দেখে খুশি ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নাজিফা জান্নাত। এর আগেও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন দেখেছে। এবারও তাই মায়ের সঙ্গে দেখেতে এসেছে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইল শাখার সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু জানান, ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ কলেজ সংলগ্ন কুড়িরডোব মাঠে ভাষা শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শুরু হয়। শুরুতে এর পরিধি কম থাকলেও পর্যায়ক্রমে বাড়তে বাড়তে এখন এক লাখ মোমবাতি জ্বালিয়ে শহিদদের স্মরণ করা হয়। এ আয়োজন সফল করতে সাংস্কৃতিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক কাজ করে থাকে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে।