সোমবার রাতে উপজেলার চানঁপুর সেতু এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে রাতেই ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চালকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং মঙ্গলবার ভোরে বিক্রি করা ৪ টি ব্যাটারিসহ ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন অটোরিকশা চালক শাহ আলম ও ব্যাটারি ক্রেতা কবির মিয়া। এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক জাকিবুল হাসান বাবু বাদী হয়ে ভৈরব থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
.png)
ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে ফেসবুকের ভিডিওতে প্রথমে ঘটনাটি দেখি। ভিডিওতে দেখা যায় একজন অটোরিকশা চালক তার মালিকের কাছে কেঁদে কেঁদে বলছেন তার অটোরিকশাটি শহরের কালীপুর এলাকা থেকে ছিনতাই হয়েছে। এ সময় চালকের শরীর মুখ কাঁদামাখা ছিল। এতে আমার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর রাত ১২ টার দিকে একদল পুলিশসহ অটোরিকশার মালিকের বাসা খোঁজ করে তার ভৈরবপুর এলাকার বাসায় যাই।
এ সময় মালিক বাবুর কাছে ঘটনা জানতে চাই । বাবু তখন আমাকে বলেন, চালক বলেছেন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গাড়িটি ছিনতাই হয়েছে চানঁপুর সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে। পরে চালককে নিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করলেও গাড়ির ৪ টি ব্যাটারি ছিল না। এই ব্যাটারির প্রকৃত মূল্য ৬০ হাজার টাকা বলে জানান মালিক।
চালকের কথা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা গাড়িটি স্টেডিয়ামের কাছে ফেলে রেখে ব্যাটারি নিয়ে যায়। তারপর মালিককে সঙ্গে নিয়ে চালককে তার ভৈরবপুরের বাসা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি রাত দেড়টায়।
এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অটোচালক শাহআলম স্বীকার করে ঘটনাটি ছিনতাই নয়, সে নিজেই ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ৪ টি ব্যাটারি ২৯ হাজার ৫০০ টাকায় একজনের কাছে বিক্রি করেছেন। পরে চালক ও মালিককে নিয়ে রাত সাড়ে ৩টায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউপির আতকাপাড়া এলাকায় ক্রেতার বাড়িতে যাই। ক্রেতার নাম কবির মিয়া। সেখানে গিয়ে তার ঘরে ব্যাটারিগুলি পাওয়া যায়। ক্রেতা স্বীকার করেন ব্যাটারি গুলো ২৯ হাজার ৫০০ টাকায় চালকের কাছ থেকে কিনেছেন। এ সময় ব্যাটারিসহ কবিরকে আটক করা হয়। তারপর শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যাটারি বিক্রির ২৭ হাজার ৮০০ টাকা ভৈরব বাজারের খাঁন স্টোরের মালিক রায়হানের কাছ থেকে মঙ্গলবার ভোরে উদ্ধার করা হয়।
রায়হান জানান, সোমবার রাত ৯ টার দিকে চালক শাহআলম টাকাগুলি আমানত রেখে যায়।
ওসি সফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর সন্দেহ পোষণ হয়। সোমবার সারারাত অভিযান চালিয়ে ঘটনাটির রহস্য উম্মোচন করেছি। আমার চাকরি জীবনে এ ধরনের ঘটনা কখনো পায়নি। চালক স্বীকার করেছেন ঘটনাটি ছিল সাজানো নাটক। ঋণগ্রস্ত হয়ে তিনি টাকার লোভে এ কাজ করেছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন চালক।
অটোরিকশার মালিক জাকিবুল হাসান বাবু জানান, চালকের প্রতারণার নাটকটি বুঝতেই পারেননি। ওসি সফিকুল ইসলাম ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ব্যাটারি উদ্ধার করে দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করায় তাকে ধন্যবাদ দেন এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।