তিনি অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর দেবীপুর প্রাইম ফিলিং স্টেশনে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার নিহতের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পরিবারসহ এলাকাবাসী। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক আহত হন।
নিহত রনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম মধুগ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। আহত অটোরিকশাচালক জাহিদ আলম (২৭) ফেনীর সোনাগাজীর নবাবপুরের ফতেহপুর গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে।
.png)
নিহতের মামা জহিরুল হক জানান, দুই মাস আগে রনি ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর কাঁঠালতলা এলাকায় মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের মেয়ে খাদিজা আক্তার রিংকির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠান করে বউ ঘরে তোলার কথা ছিলো। রনি দীর্ঘদিন ধরে প্রাইম ফিলিং স্টেশনে চাকরি করতেন। রাতে ডিউটি শেষ করে সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু একটি সিএনজচালিত অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়ার সময় হঠাৎ অটোরিকশার সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সাইদুল ইসলাম রনির শরীর ঝলসে যায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাহিদ আলমও আহত হন। স্থানীয়রা দুইজনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সিএনজি অটোরিকশাচালক জাহিদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিহতের চাচা মুসলিম উদ্দিন জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রনি সবার বড়। ফিলিং স্টেশনে কাজ করে তিনি পরিবারের হাল ধরেছিলেন। উপার্জনক্ষম রনি ছিলেন পরিবারের মধ্যমণি। ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বাবুকে বিদেশে পাঠিয়েছেন, দুই বোনের বিয়ে দিয়ে সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। পরিবারের সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। শোকে স্তব্ধ পরিবারসহ এলাকাবাসী।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. শাহীনূর আলম বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে আনার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্যজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
প্রাইম ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কুদরত উল্লাহ বাবু জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। আমাদের কোনো ভুলের কারণে এটি হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিটিও নতুন। এটি এখনো অন টেস্ট। তবে ওই সিএনজিতে ডাবল সিলিন্ডার ছিল। সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ ছিল কিনা বলা যাচ্ছে না।
ফেনী মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রনির মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মজিদ বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে কেউ অবগত করেনি। এ ধরনের দুর্ঘটনার খবর পেলে আমরা দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার ও মরদেহ পুলিশে হস্তান্তর করি। সিলিন্ডারগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর রিটেস্ট করা উচিত। আর এ ঘটনায় যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ও ফায়ার সার্ভিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবো।