পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ’র ধর্মঘটের ফলে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন রুমা ও থানচি উপজেলার স্থানীয় জনসাধারণ এবং আগত পর্যটকেরা।
কেএনএফএ’র মুখপাত্র ফ্লেমিং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, অত্র অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সব জাতি গোষ্ঠী-ধর্ম-বর্ণের কথা বিবেচনা করে এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন দিক থেকে আশ্বস্ত করায় কেএনএফএ’র ইমার্জেন্সি এক্সিকিউটিভ মিটিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলমান যানবাহন ধর্মঘটটি প্রত্যাহার করা হলো। আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ বা সুরাহা না হলে কেএনএফ আবার কঠোরভাবে যানবাহন ধর্মঘটের ডাক দিতে প্রস্তুত। মূলত শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেয়ার স্বার্থে ধর্মঘট থেকে সরে এসেছে সংগঠনটি।
.png)
সকাল থেকে জেলার রুমা ও থানচি উপজেলার বাস টার্মিনালের টিকেট কাউন্টারগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীরা টিকেট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন।
বান্দরবান বাস মালিক সমিতির অফিস সহকারী মিলন দাশ বলেন, আজ সকাল থেকেই যথারীতি আমাদের বাস টিকেট কাউন্টারগুলোতে সাধারণ যাত্রী এবং পর্যটকরা টিকেট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন। রোববার প্রশাসনের সঙ্গে রুমায় কেএনএফএ’র নেতাদের আলোচনা হওয়ায় তারা ধর্মঘট উঠিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, রোববার প্রশাসনের সঙ্গে রুমায় বম জনগোষ্ঠী নেতাদের আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যে বিষয়টি নিয়ে জাতিগত একটি সহিংসতা বিরাজমান ছিল তা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব সম্প্রদায়ের জনসাধারণকে সব ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় খুশি স্থানীয় জনসাধারণ। স্থানীয়রা জানান অস্ত্র, সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে কেএনএফএ’র উচিত শান্তি আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ পাহাড়ি জনসাধারণসহ বম জনগোষ্ঠীর অনেকেই অযাচিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, রোববার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফন্টের (কেএনএফ) সদস্যরা বাসের এক শ্রমিককে মারধর করেন। এর প্রতিবাদ ও পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বান্দরবানের রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।