শাহেনা আক্তার ওই গ্রামের বেলাল হোসেনের (৩২) স্ত্রী। আদালতের নির্দেশে চরমজিদ গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হাই খোকন বেপারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করা হয়।
শনিবার দুপুরে সুবর্ণচর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমার উপস্থিতে চরজব্বর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গৃহবধূর স্বামীর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।
.png)
জানা যায়, গৃহবধূ শাহেনা আক্তারের পিতা আবুল তার মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য দায়ী করে স্বামী বেলাল হোসেন (৩২) দেবর মাঈন উদ্দিন (১৯), মনোয়ারা বেগম (৩৫), আজাদ হোসেন (৩৮) ও শাশুড়ি মোকছেদা খাতুনের (৬০) বিরুদ্ধে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলায় বাদী আবুল জানান, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে মেয়ে শাহেনা আক্তার (৩৭) স্বামীর বাড়িতে মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে আমরা ছুটে যাই। পরে মেয়ের লাশ তার স্বামীর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই মৃত্যু আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি বলে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে সত্য উদঘাটনের জন্য মামলা দায়ের করেন। এছাড়া শাহেনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে, যৌতুক, চিকিৎসায় অবহেলা ও পারিবারিক অশান্তির বিষয়ে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
গৃহবধূর স্বামী বেলাল হোসেন জানান, ২০১৯ আমার সঙ্গে শাহেনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমরা সুখী ছিলাম। আমার প্রথম ছেলে শিশুটি মারা যায়। দ্বিতীয় কন্যা শিশুর বয়স ৪ বছর। বিয়ের পর থেকে মারা যাওয়ার আগ-পর্যন্ত সংসারে কোনো অশান্তি ছিল না। আমরা ভালোবেসে বিয়ে করি। সাংসারিক জীবনে কখনো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ও সমস্যা হয়নি। মৃত্যুর পূর্বে আমার স্ত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ ১৫ ডিসেম্বর রাতে সে বুকে ব্যথা অনুভব করে। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তার অবস্থা অবনতির দিকে গেলে তার মা-বাবাকে খবর দেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতিকালে সে মারা যায়। মৃত্যুর পর উভয় পরিবার একত্রিত হয়ে তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। তখন আমার শ্বশুরপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি।
এছাড়াও উভয় পরিবার একসঙ্গে হয়ে পারিবারিক দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীর পূর্বের স্বামীর দেওয়া জমির দখল ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কিছুদিন যাবত আমার শ্বশুর পক্ষ ঝামেলা করছে। জমির ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করতে এ মামলা করেছে।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালীর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়ে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।