বুধবার দুপুরে আদমদীঘি থানার ওসি রাজেশ কুমার চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সদরের সালনা বাজারের কাঁথারা এলাকা থেকে আব্দুল রশিদকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুর রশিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শ্রীকান্দর গুচ্ছগ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে।
.png)
জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শ্রীকান্দর গুচ্ছগ্রামের আব্দুর রশিদের সঙ্গে বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার খাড়িয়া নিশিন্দা গ্রামের রাজিয়া সুলতানার চার বছর আগে বিয়ে হয়। এটি রাজিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তারা আদমদীঘির সান্তাহার চা-বাগান এলাকার মনোয়ারা ভিলা নামক বাসায় ভাড়া থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। গত ২৭ জানুয়ারি আব্দুল রশিদ ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ভাড়া বাস থেকে ঢাকায় যান। ৪ ফেব্রুয়ারি ঐ বাসায় ফিরে যান। রাজিয়া বেগমের আগের সংসারের এক মেয়ে রয়েছে। সে ঐ ভাড়া বাসার অন্য কক্ষে থাকতো। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হয়।
একপর্যায়ে আব্দুর রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা রাজিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ও পরে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। পরে র্যাব-১২ এর বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে র্যাব-৪ এর সহযোগিতায় তারা আসামি আব্দুর রশিদকে মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সদরের সালনা বাজারের কাঁথারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে তাকে আদমদীঘি থানায় সোপর্দ করা হয়।