রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউপির চাঁদপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম খান ওই এলাকার মান্নান খানের ছেলে।
জানা গেছে, খালাতো বোনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম নাঈমের। এরপর ছেলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় বিয়ের প্রস্তাব। কিন্তু ওই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন মেয়ের অভিভাবকরা। এ নিয়ে নাঈমের মা চায়না বেগমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ রুমে গিয়ে ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন নাঈম। এরপর নাঈমের মা রুমে গিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
.png)
নাঈমের বাবা মান্নান খান বলেন, নাঈম শিশু থাকতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং সে সময় থেকেই তিনি ছেলেকে মানুষ করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মোটরসাইকেলের লোভ দেখিয়ে ওর মা চায়না নাঈমকে নিয়ে যায়। এরপর দুইবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা করে নাঈম। তারপর অনেকে রাগারাগি করে মোটরসাইকেল বিক্রি করিয়েছি এবং ছেলেকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলে শত বাধা দেওয়ার পরেও সে তার মায়ের কাছে চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে ফেল করেছে। মূলত সম্পত্তির লোভে নাঈমকে ষড়যন্ত্র করে মেরেছে চায়না ও তার দ্বিতীয় স্বামী। নাঈম না থাকলে ওদের সব হয়ে যাবে এই লোভে।
চায়না ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার এসআই আবুল হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, নাঈম আত্মহত্যা করেছে। গলায় ফাঁস নেয়ার চিহ্ন রয়েছে। ময়নতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বরে জানান তিনি।