বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী ‘ওস্তাদ ভাই লাঠি খেলা’ ও লোকজ মেলা। এ উৎসবের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিশির কুমার রায়। এর আগে, কুষ্টিয়া টাউন হল থেকে লাঠিয়ালদের এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষ্ঠান স্থলে গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় সাত শতাধিক লাঠিয়াল অংশ গ্রহণ করবেন।
লাঠি খেলা অনুশীলনকারীকে লাঠিয়াল বলা হয়। এ খেলার লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা। খেলোয়াড়রা নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করেন। ঐতিহ্যবাহী এই লাঠি খেলায় প্রয়াত ওস্তাদ রতন চৌধুরীর মেয়ে রুপন্তি চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লাঠিয়ালরা লাঠি খেলা প্রদর্শন করছেন। আর খেলা দেখতে আসেন হাজারো মানুষ। লাঠির ঠক ঠক আওয়াজ আর ঢোলের শব্দে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আর একটু পরপর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ছাপিয়ে যায় সবকিছুকে।
.png)
লাঠি খেলা উৎসব ও লোকজ মেলা উপলক্ষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠ সেজেছে অপরূপ সাজে। মাঠ প্রাঙ্গণে বসেছে মেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠে নামেন লাঠিয়ালরা।
কথা হয় লাঠি খেলা দেখতে আসা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে কুষ্টিয়ায় চাকরি করেন। ঝিনাইদহ থেকে সকালে ছেলের কাছে আসার পর জানতে পারি লাঠি খেলা হচ্ছে। লাঠি খেলা আমার খুব পছন্দের। তাই দেখতে ছুটে এসেছি।
রফিকুল ইসলাম নামে এক লাঠিয়াল জানান, লাঠি খেলা ঐতিহ্য। এটা নিছক একটি খেলা নয়। এর থেকে আত্মরক্ষার কৌশলও শেখা যায়।
আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকু জানান, এরই মধ্যে কয়েকশ’ লাঠিয়াল কুষ্টিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। লাঠি খেলার পাশাপাশি সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে লোকজ মেলা তো রয়েছেই। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় সমাপনী ঘোষণার মধ্যদিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি টানা হবে বলেও জানান তিনি।