বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের একটি টিম ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। হারুন এ মামলার এজাহারভুক্ত ২নং আসামি। ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। এমনকি যশোর সীমান্ত দিয়ে একবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পর থেকে পুলিশ তার গতিবিধি নজরে রাখে। এ নিয়ে এ মামলার সবাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
.png)
অপরদিকে, এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে বুধবার আদালতে উপস্থাপন করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদেশ দেওয়া হবে। মামলার অপর আসামি মেহরাজ উদ্দিন (৪৮) অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এ সময় আসামি মেহরাজ জানিয়েছেন, এ মামলার অপর দুই আসামি আবুল খায়ের মুন্সী ও মো. হারুনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে তিনি ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অনুপস্থিতে চুরির উদ্দেশে তার বসতঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ঘরের দরজা খুলে দিলে মুন্সী মেম্বার ও হারুন ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে মুন্সী মেম্বার ও হারুন দুইজন মিলে পালাক্রমে ওই নারীকে গণধর্ষণ করেন। এ সময় মেহরাজ পাশের কক্ষে থাকা ওই নারীর ১২ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করেন। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নিয়ে তিনজন ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চরওয়াপদা ইউনিয়নে চরকাজী মোখলেছ গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে সিঁধ কেটে এক গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘর থেকে দুটি নাকফুল, কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট করে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আবুল খায়ের মুন্সী ও মো. হারুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহর থেকে আবুল খায়ের মুন্সীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার রাতে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেফতার করা হয়। মেহেরাজ একই এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে।