ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শিশু মরিয়ম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মা-চাচা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
শিশু মরিয়ম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মা-চাচা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দশমিনায় আলোচিত শিশু মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এই শিশুর হত্যাকারী তার মা রিনা বেগম (৩৮) ও চাচা সেন্টু মৃধা (৫০)।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামভল্লব গ্রামে মরিয়মকে হত্যার স্থানে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ তথ্য জানান জেলা পটুয়াখালী পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম। এর আগে, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তাদের গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এ হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য।  জবানবন্দিতে তারা এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর পরই রিনা বেগম বাড়িতে এসে মরিয়মকে খুঁজে না পাওয়ার অভিনয় করেন। এরপর চিৎকার ও খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে গ্রামের সকলে জেনে যায় মরিয়মকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই বাড়ির সকলে মিলে শিশুটিকে খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে নিহত শিশুটির মা মরিয়মকে খোঁজার নাম করে পুকুরে নেমে হত্যার সময় কাপড়ে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রিনা বেগম রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় শিশুটির রক্তমাখা মরদেহ ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শনাক্ত করে কান্নাকাটি করে সকলকে অবহিত করেন। ঘটনার পরপরই দশমিনা থানার পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায়।

Advertisement

পরদিন সকালে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের একাধিক টিম চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে খুঁজতে থাকেন হত্যাকাণ্ডের ক্লু। তবে খুব দ্রুত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দেওয়া ঘটনার বিবরণে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই ৫ ফেব্রুয়ারি নিহত শিশু মরিয়মের চাচা সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহত শিশু মরিয়মের মা রিনা বেগমকেও গ্রেফতার করে। উভয়ই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যে আরো জানা যায়, পূর্ব থেকেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল শিশু মরিয়মের বাবা ও চাচাদের। মামলায় জর্জারিত হয়ে আসামিদের অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়। প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করতেই পূর্ব থেকেই রিনা বেগমের তিন মেয়ের এক মেয়েকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তার মা ও শিশুটির আপন চাচা।

ঘটনার দুইদিন পূর্বে শিশুটি তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে আসে স্বপরিবারে। সুযোগ বুঝে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন সন্ধ্যার পর শিশুটিকে নির্জন ও পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চাচা লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথায় সজরে পরপর দুইটি আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশু মরিয়মের মা শিশুটির ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে দুইজন দুই দিকে চলে যান।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটি অনেক ভালো ছিল সকলের সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলতো। কিভাবে একজন মা তার সন্তানকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করতে পারে, এ কথা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমরা এর কঠিন বিচার চাই। কোনো মা যেন এমন ঘটনা ঘটানোর চিন্তাও না করে। মায়ের কাছে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা আর সেই মা যদি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা করে নিজের পেটের সন্তানকে তাহলে আমরা কোথায় বসবাস করছি। এমন মায়ের ফাঁসি চাই।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ক্লুলেস এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। গর্ভধারিণী মা তার দেবরের সহযোগিতায় সন্তানকে হত্যা করেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মূল পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডটি শিশুটির মা রিনা বেগম ও চাচা মো. সেন্টু মৃধা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত আলামত জব্দ করা হয়েছে।

 সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার, পটুয়াখালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন, দশমিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অনুপ দাস, বেতাগি সানকিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ঝন্টুসহ জেলা ও উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!