মানুষের হাতে কুকুর ছানাদের ওপর এমন অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনাটি ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার। ঐ এলাকার এক গৃহবধূ কুকুরের বাচ্চা দু’টির ওপর এই নৃশংসতা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। গত সোমবার রাতে ড্রেনের মধ্যে ঐ কুকুরের ছানা দু’টি ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
জিয়াউল হাসান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, সোমবার রাতে ড্রেনের মধ্যে কুকুরের গোঙানির আওয়াজ শুনে কয়েকটি শিশু তাদের ড্রেন থেকে তুলে পাশের ফুটপাতের ময়লার পাশে তুলে রাখে। শীতের রাতের তীব্রতা সহ্য করেও একটি কুকুর ছানা ঘটনার পর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। যদিও প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হয়ে শরীর নাড়াতে পারছে না এখনো। একই স্থানে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা কুকুরটি হঠাৎ মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার কথা যেন জানান দিচ্ছে।
.png)
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দু’একজন সহানুভূতিশীল মানুষ তার জন্য পাশে খাবার রেখে দিয়েছে। আর তার পাশেই গত তিনদিন যাবৎ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে অপর কুকুর ছানাটি।
পরিবেশবাদীদের মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা এক ধরনের মানসিক বিকৃতি বা অসুস্থতা।
ফরিদপুর ডায়বেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টুডেন্ট আহমেদ সৌরভ বলেন, একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করলে তার যে কষ্ট হয়, অন্য প্রাণীরও তাই হয়। দেশে নৃশংসভাবে প্রাণী হত্যার হার ব্যাপকভাবে বাড়ছে, বাড়ছে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।
ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদ আলী বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর এই অপরাধে দায়ী ব্যক্তি বা সংঘটনে সহায়তা করলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। মালিকবিহীন বা বেওয়ারিশ কোনো প্রাণীকে হত্যা এ অপরাধের শামিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইদ্রিস খান বলেন, ঘটনাটি আমার চোখে পড়েনি। তবে অবলা প্রাণীর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কাম্য নয়। আর পৌরসভার ড্রেনেও মৃত প্রাণী ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।