ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভালো নেই হাকালুকি হাওরের অতিথি পাখি

আশরাফ আলী, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১৫:৪২, ২৪ জানুয়ারি ২০২৪
ভালো নেই হাকালুকি হাওরের অতিথি পাখি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে হাকালুকি হাওরে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীত প্রধান দেশগুলো থেকে উষ্ণতার খুঁজে প্রাণ রক্ষার জন্য তাদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেয় হাকালুকি হাওরকে। জীবন রক্ষা করতে এসে বিষটোপ অবাধে মরছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

হাকালুকি হাওরের অবস্থান দেশের উত্তর-পূর্বঞ্চলের মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ৫টি উপজেলায়। ১৮১ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাওর। এখানে ছোট বড় ২৭৩ বিল ও ১০ নদী ও অসংখ্য খাল রয়েছে। সরকার ১৯৯৯ সালে এ হাওরকে পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে।

যদিও জলাভূমিতে পরিযায়ী পাখি শিকার সরকারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জলাভূমিগুলোকে পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ) হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবুও সেসব এলাকায় পাখি হত্যা চলছে নির্দ্বিধায়। বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয় শিকারিরা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে হত্যার নিষ্ঠুর ও কুৎসিত পথ বেছে নিয়েছেন বিষটোপ।

Advertisement

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার হাকালুকি হাওরের জুড়ী অংশে নাগুয়া ও চাতলার বিলে পাখি দেখতে ও ছবি তোলার জন্য আসেন তিনজন আলোকচিত্রী। হঠাৎ তারা দেখেন নাগুয়া বিলের মোট ৩২টি হাঁস পাখির মৃতদেহ। আশেপাশে একটি দুটি করে ধুঁকে ধুঁকে মরছে আরো কয়েকটি পাখি।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, তারা দল বেঁধে বিষটোপ ও জাল দিয়ে পরিযায়ী পাখি শিকার করছে। তারা সেসব পাখি গোপনে চড়া দামে বিক্রিও করছে। তবে প্রভাবশালীরা শিকারি দলে থাকায় তারা মুখ খুলে কাউকে এ বিষয়ে বলতে পারছে না।

চাতলা বিলের ইজারাদার হাবিবুর রহমান বলেন, হাকালুকি হাওরে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। আগে অনেক পাখি দেখতাম এবার এসব চোখে পড়ছে না।

বড়লেখা উপজেলার আজিমগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ৭-৮ জনের একটি পাখি শিকারি দল পাখি শিকার করে এবং নিয়মিত আমার কাছে বিক্রি করে। আমি এসব স্থানীয় বাজার ও বসতবাড়িতে বিক্রি করি।

হাওরে পাখি কিনতে পাওয়া যায় কি-না জানতে চাইলে স্থানীয় একজন বলেন, হাকালুকি হাওরের পাখির অনেক দাম। দুটি হাঁস পাখি ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অনেকে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রাখেন। আপনার লাগলে অর্ডার দিতে পারেন। এখানে অনেকেই শিকার করে।

পাথারিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য খোর্শেদ আলম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী যেকোনো বন্যপ্রাণী হত্যা, শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও নিজের দখল বন্দি করে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু শীত মৌসুমে একটি কুচক্রী মহল পাখি শিকারের মতো নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষটোপ দিয়ে পাখি হত্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি মূলত; কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। এই সুযোগে শিকারিরা পাখি হত্যার কাজে ব্যবহার করে। আমরা অনুসন্ধান করে খুব দ্রুত এদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!