এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় যমজ দুই কন্যার। তবে নবজাতক দুজনের পেট জোড়া লাগা (কনজয়েন্ট টুইন) থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আফরোজা সুলতানা মেঘলা ও মো. শাহানুর ইসলাম দম্পতির।
আফরোজা সুলতানা মেঘলা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বদলকোট গ্রামের দরগা বাড়ির মাহবুব আলমের মেয়ে। মো. শাহানুর ইসলামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। শাহানুর মুন্সিগঞ্জের ভাটারচরে একটি কাপড়ের মিলে স্বল্প বেতনে দিনমজুরের কাজ করেন। শিশু দুইটি বর্তমানে তাদের নানাবাড়িতেই অবস্থান করছেন। জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হওয়ার খবরে বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
.png)
আফরোজা সুলতানা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। স্বামী শ্রমিক ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। দুই সন্তানের অপারেশনের খরচ চালানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। অ্যাম্বুলেন্সে করে যে ঢাকায় নিয়ে যাবো সেই ভাড়াও আমাদের কাছে নেই। তাই সরকারি খরচে চিকিৎসাসহ সমাজের সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা চাই।
শিশু মায়মুনা-মরিয়মের বাবা শাহানুর ইসলাম বলেন, আমি নিজে একজন দিনমজুর। ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন পাই। আর্থিক অবস্থা ভালো না। যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। বাচ্চাদের আর তাদের মায়ের চিকিৎসা করাব কী দিয়ে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। ডাক্তাররা বলছেন ঠিক হবে ঢাকায় নিয়ে গেলে। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় ঢাকায় নিতে পারছি না।
২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে আনার পর সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সাইফুদ্দিন ও শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শিশু দুইটিকে দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে নিলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা যাবে। এজন্য অর্থের প্রয়োজন। তবে পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে নিতে পারছেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন।