সোমবার বিকেলে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কালাচাঁদপুর বটতলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টার পর থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় উপজেলাসহ, পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জ জেলার ৩০টি ঘোড় নেয়। ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় দেখতে বিকেলে উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কালাচাঁদপুর বটতলায় হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশু। এ মেলা উপলক্ষে এলাকার মেয়ে, জামাই ও আত্মীয়স্বজনেরা গ্রামে চলে আসেন বলে জানা যায়। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে বসেছে গ্রামীণ মেলাও। বাহারি খাবার, খেলনাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। মানুষের আনাগোনা থাকায় বেচাবিক্রির বেশ ভালোই হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
.png)
মেলায় আসা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি এই গ্রামের মেয়ে। আমার বিয়ে হয়েছে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায়। প্রতিবছর অপেক্ষা করি এই ঘোড়দৌড় দেখার জন্য। গতকাল দুপুরে স্বামীকে নিয়ে এসেছি বাবার বাড়িতে। আমার বড় বোনও তার স্বামী এবং মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যায় এসেছেন।

কথা হয় ৭০ বছর বয়সী রহমান শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ ঘোড়দৌড় আমার দাদার আমলের আগে থেকে হয়ে আসছে। আজ সেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। আগে তো অনেক ঘোড়া আসতো। তবে এখন খুব অল্প আসে প্রতিযোগিতায়। ছেলে ও মেয়ের ঘরের নাতি-নাতিন নিয়ে মেলায় এসেছি।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. হানিফ খান জানান, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতেই প্রতিবছর আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলাও বসে। মেলায় প্রায় শতাধিক দোকানদার আসেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর গ্রামের নাজমুল হাসান, দ্বিতীয় একই উপজেলার ছনকা গ্রামের অশরু মিয়া এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ঘিওরের পেঁচারকান্দ গ্রামের রাশু। পরে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।