গ্রেফতারকৃত মারুফ হোসেন বাপী (২৮) শহরের মনজিতপুরের মৃত আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমের অ্যাডমিন শেখ মাহবুবুল হক জানান, মারুফ হোসেন বাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তাদের কাছ থেকে ভিডিও কল, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার ও টেলিগ্রামে আপত্তিকর ছবি সংগ্রহ করতেন। সুবিধামতো সময়ে তাদের ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। কখনো কখনো তাদের শয্যাসঙ্গী হতেও বাধ্য করতেন। সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তার খপ্পরে পড়েন। সপ্তাহ-দুয়েক আগে ওই ছাত্রীর পিতা সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করেন। এর ভিত্তিতে মাঠে নামে পুলিশ।
.png)
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মারুফ নিজেকে ডা. আরমান হোসেন নিলয় পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলতেন। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও ধারণ করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। কখনো অর্থ হাতিয়ে নিতেন, আবার কখনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতেন। সম্প্রতি থানায় করা একটি জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। একাধিক আইডি ও অন্যের নামে সিম ব্যবহার করে তিনি প্রতারণার রাজ্য গড়ে তোলেন। তাকে ধরতে ফাঁদ পাতে পুলিশ। শুক্রবার রাতে প্রতারণার শিকার ছাত্রীর মাধ্যমে মারুফকে উত্তর কাটিয়ার ঈদগাহ মাঠে ডেকে আনা হয়। সেখানে মারুফকে আটক করে পুলিশ। পরে তার মুঠোফোন থেকে একাধিক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোহিদুল ইসলাম জানান, মারুফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।