বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের খিলপাড়া বন্দের বাইত এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই শিশুটির বাবা আরজু মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত আরজু মিয়া রশিদাবাদ ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ২০১০ সালে আরজু মিয়া ও ফাতেমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণে দেড় বছর আগে তারা আলাদা বসবাস করতেন। চারমাস আগে আরজু ও ফাতেমার ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের পর বড় ছেলে ফাহিম বাবা সঙ্গে ও দুই মেয়ে বৃষ্টি আক্তার ও জান্নাতুল মায়ের সঙ্গে থাকত।
.png)
সংসার চালানোর জন্য ফাতেমা জেলা শহরের নগুয়া এলাকার একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আরজু মিয়া ফাতেমার বাড়িতে যান। পরে বৃষ্টি ও জান্নাতুলকে শীতের কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপরে রাতে আরজুর স্বজনরা ফাতেমাকে জানান তার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। পরে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের খিলপাড়া বন্দেরবাইত এলাকা থেকে শিশু বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশু বৃষ্টির মা ফাতেমা আক্তার বলেন, রাত ৮টায় বৃষ্টি তার বাবার ফোন থেকে ফাতেমাকে কল দিয়ে বলে, আব্বা বলতেছে রাতে আব্বার সঙ্গে থাকতাম। পরে আমি বৃষ্টিকে না করি ওইখানে থাকতে। এই কথা শোনামাত্রই আরজু আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আরজুর ভাতিজা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, বৃষ্টিকেতো মাইরা ফেলছে। এরপর থানা থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়। পুলিশ আমাকে লাশ শনাক্ত করার জন্য ওইখানে যেতে বলে। আমি গিয়ে দেখি আমার মেয়ে লাশ পড়ে আছে। আমার মেয়েকে আরজুই হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, বৃষ্টির গলায় দাগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি রহস্যজনক। তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।