ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরে প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০১, ৩ জানুয়ারি ২০২৪
যশোরে প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান
মণিরামপুরের খেদাপাড়ায় ধনপোতা ঢিবি খনন করে প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান মিলেছে

যশোরের মণিরামপুরের খেদাপাড়ায় ধনপোতা ঢিবি খনন করে প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। এরই মধ্যে দুইটি চওড়া ইটের দেয়ালের সন্ধান পেয়েছে। অংশগুলি ছাড়াও পাওয়া গেছে মৃৎপাত্র, পাথরের টুকরা, বাটি, পশুর হাড় ও লোহার পেরেক। এগুলো দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এখন পর্যন্ত ধনপোতা ঢিবি খননে দুইটি চওড়া ইটের দেয়ালের সন্ধান মিলেছে। এর দেয়ালের গাঁথুনি কাদার। চুনের জমাট বাঁধা রয়েছে এতে। এখানে পাওয়া ইট ও গাঁথুনির সঙ্গে যশোরের কেশবপুরের ভরতভায়নার ভরতের দেউল এবং মণিরামপুরের দোনার এলাকার দমদম পীরের ঢিবির ইট ও গাঁথুনির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, মনিরামপুর উপজেলার দমদম পীরের ঢিবিতে ২০০৬ সালে খননকাজ করা হয়। ঐ সময় একটি অনুসন্ধানে উপজেলার খেদাপাড়া ধনপোতা ঢিবির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ধনপোতা ঢিবির খননকাজ শুরু হয়। প্রথমে একটি বর্গে খননকাজ শুরু করেন ছয়জন শ্রমিক। এখন ১৭ জন শ্রমিক আটটি বর্গে খননকাজ করছেন। খননের দ্বিতীয় দিনেই সন্ধান মেলে একটি দেয়ালের। পরে আরো একটি দেয়ালের সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো এক হাজার ২০০ বছর আগের স্থাপনা হতে পারে।

Advertisement

দেয়ালে দুই ধরনের ইট পাওয়া গেছে। একটি ইটের দৈর্ঘ্য ৩২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১৬ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং অপরটির দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২২ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার। কাদার গাঁথুনি। চুন জমাট বাঁধা রয়েছে। এছাড়া খননে পাওয়া গেছে মৃৎপাত্র, পাথরের টুকরা, লোহার পেরেক, বাটি ও পশুর হাড়।

বর্তমানে ধনপোতা ঢিবির মালিক খেদাপাড়া গ্রামের ছয় ব্যক্তি। তাদের একজন প্রতাপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ ঢিবিটিতে জমির পরিমাণ ৫৭ শতক। এটি আমাদের ঠাকুরদাদাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এখানে কোনো বসতি দেখেননি আমাদের সাত পুরুষ। পরিত্যক্ত অবস্থায় ঝোপঝাড়ে ভরে ছিল এটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর খনন করছে এখন সেখানে।

খবর পেয়ে আশপাশের এলাকার অনেক নারী-পুরুষ এসেছেন খুঁড়ে পাওয়া পুরোনো আমলের স্থাপনা দেখতে। খেদাপাড়া গ্রামের ফজর মোড়ল নামে একজন বলেন, ঐ এলাকায় ঝোপঝাড় ছিল। সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া কম সেখানে। কেউ কখনো ভাবেনি নিচে দেয়াল থাকতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: যশোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!