তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। শীতের মধ্যে কাজ করতে বের হয়ে কাজ না পেয়ে ও শীতের মাঝে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
পথচারী আবু আবদুল্লাহ বলেন, কাল থেকে হঠাৎ করে এমন শীত পড়েছে, যে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নানা রোগ বালাই। জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ নানা ধরনের অসুখ হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের অসুখ বেড়েছে। দিনের বেলা হালকা গরম লাগলেও বিকেলের পর থেকে শীতের মাত্রা বাড়তে থাকে।
.png)
শিক্ষার্থী আঞ্জুমান লিয়ানা বলেন, সকালে কোচিং করতে যেতে হয় কিন্তু বেশ শীত পড়েছে। এতে করে আমাদের যেতে খুব কষ্ট হয়।
বৃদ্ধ আবু তাহের বলেন, কী আর বলবো শীতের কথা। যে শীত পড়েছে, তাতে বাঁচাই দায়। একে তো ডায়াবেটিস। এর জন্য সকালে হাঁটতে যাওয়ারও উপায় নেই। তার ওপর সর্দি-কাশিতো লেগেই আছে। শীতে আমাদের মতো বয়স্কদের খুবই কষ্ট। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে সাধারণ পরিবহন।
শহরের সহদেবপুর এলাকার শরীফা বেগমের ভাষ্য, ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করায় ২-৩টা কাঁথা-কম্বল দিয়েও শীত মানানো যাচ্ছে না।
ফেনী সদর উপজেলার কৃষি শ্রমিক জয়নাল মিয়া বলেন, তীব্র শীতে হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে মাঠে থাকাটাও কষ্টকর।
দিনমজুর নবীউল হক বলেন, আমরা প্রতিদিন মানুষের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে যা পাই তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে চলি। কিন্তু যে শীত পড়েছে বাড়ি থেকে বেরই হওয়া খুব কষ্টকর। কিন্তু বাড়ি থেকে বের না হয়ে উপায়ও নেই। কাজ না করলে ভাত তো খাওয়া হবে না।
ফেনীস্থ আবহাওয়া অধিদফতরের বেলুন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হেনা জানান, আজ ফেনীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে।
এদিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ ইকবাল জানান, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে থাকা শয্যার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য ওয়ার্ড গুলোতেও দৈনিক শীতজনিত অসুস্থতা নিয়ে গড়ে আড়াই শ রোগী অবস্থান করছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ দেখা যাচ্ছে।