ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নেশার টাকা না পেয়ে মায়ের সামনে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৩, ২ জানুয়ারি ২০২৪
নেশার টাকা না পেয়ে মায়ের সামনে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা
ফাইল ছবি

নেশার টাকা না দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে হেলাল মিয়ার (২৬) বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে ছেলে মো. হেলাল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বেতুয়া পলিশা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে হেলাল মিয়া তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় বাড়ির উঠানে মায়ের সামনে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে বাবার চিৎকারে হেলালের বড় ভাই দুলাল মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে এগিয়ে আসলে তিনি পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় প্রথমে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

Advertisement

এরপর চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এরপর শফিকুল ইসলাম বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম ভূঞাপুর থানায় তার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে।

শেফালী বেগম বলেন, আমার ছেলে বখাটে ও নেশাগ্রস্ত ছিল। কোনো কাজ-কর্ম করতো না। নেশার টাকা জোগাতে না পেরে তার বাবার সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে মাথায় আঘাত করে এবং গুরুতর আহত হয়। পরে গত সোমবার রাতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ নিয়ে থানায় হেলালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছি।

ভূঞাপুর থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয় এবং তার বাবা শফিকুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মিয়া তার বাবাকে আঘাত করার দায় স্বীকার করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!