ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক মাদরাসা শিক্ষক 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৯, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক মাদরাসা শিক্ষক 
ফাইল ফটো

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষক ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদকে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে গ্রামবাসী। 

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। এর আগে নতুন শিক্ষা কারিকুলামের জন্য চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর চলমান প্রশিক্ষণে সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন ওই শিক্ষক। 

গ্রামবাসী জানান, কিছু দিন ধরে ওই গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজী (সাবেক কামিল মাদরাসার পিয়ন) বাড়িতে ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদ আসা-যাওয়া করেন। ওই বাড়িতে কাজীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তার এক সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। রাজন পেনশনের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতো। 

Advertisement

চুয়াডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার সাহা বলেন, ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়নের জন্য এই প্রশিক্ষণ ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, যা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রশিক্ষণের মধ্যে দুপুর ১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিরতি দিয়ে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এরই মধ্যে একজন শিক্ষক প্রশিক্ষণ চলমান অবস্থায় কি করে অন্য কোনো স্থানে অপকর্ম করে সেটা ভাবতেও অবাক লাগে। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তবে এ ঘটনার ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হবে।

মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, রাজন রাশেদ কিছুদিন ওই বাড়িতে আপত্তিকর কাজ করার জন্য আসতো। এদিন দুপুরের পর লোকজন বাড়ির প্রাচীর টোপকে ভেতরে ঢুকে ঘরের মধ্যে দুইজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। সেখানে লোকজন রাজনকে গণপিটুনি দেয়। এ অবস্থায়  নিজেকে বাঁচাতে ৯৯৯ ফোন দিলে বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তার আগে ইউপি চেয়ারম্যান রতন তাকে ছেড়ে দেয়।

মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-মামুন রতন জানান, পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহিন ও পরে ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মমিন তাকে মোবাইলে জানান, আমিরপুর গ্রামের ওই বাড়িতে অবৈধ কাজ করার সময় স্থানীয় জনসাধারণ তাদের আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত রাজন ঘরের ভেতর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে আছে। বাড়ির চারপাশে লোক সমাগম বেড়েই যাচ্ছিল। 

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আটক রাজনের হাতে তার মোটরসাইকেলের চাবি ধরিয়ে দিয়ে আমি তাকে চলে যেতে এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে জন্য বলি। এরপর সেখান থেকে দ্রুত চলে যান ওই শিক্ষক। তবে স্থানীয় জনসাধারণ বলছিল, তাদেরকে ঘরের ভেতর আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদ বলেন, আমি নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রশিক্ষণের ফাঁকে আমিরপুর গ্রামে আমাদের মাদরাসার সাবেক পিয়ন মরহুম আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজীর বাড়িতে পেনশন সংক্রান্ত একটি বিষয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বন্ধ ঘরের দরজায় আমার একজন ছাত্র টোকা দেয়। আমি দরজা খুলে দিলে সে ‘সরি’ বলে চলে যায়। এরপর দেখি প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছে। তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। এর বেশি আমি বলতে পারবো না। তবে ধারণা করছি, আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজীর দুই স্ত্রী। বড় স্ত্রীর একটি ইনস্যুরেন্স করা ছিল। সেই ইনস্যুরেন্সের টাকা উঠানো নিয়ে বিরোধের কারণে আমাকে জড়িয়ে এমনটি ঘটতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!