জানা গেছে, সাত বছর আগে পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি বালাপাড়া গ্রামের মাহবুব হোসেনের ছেলে চিরিরবন্দর বিন্যাকুড়ি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের ওই নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের বছরখানেক পর তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পারিবারিক কলহের জেরে কিছুদিন পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে কখনো বাবার বাড়ি, আবার কখনো ভাইয়ের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে ভবঘুরে জীবন যাপন শুরু করেন ওই নারী।
গত কয়েকদিন যাবত পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছিলেন তিনি। সোমবার সকাল থেকে পেটে ব্যথা অনুভূত হয় তার। বিকেল সাড়ে ৩টা দিকে স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝামাঝি স্থানে তিনি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর ওই নবজাতককে মৃত অবস্থায় পান স্থানীয়রা। এ সময় পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার সাব ইন্সপেক্টর আর্জিনা খাতুন ও সাব ইন্সপেক্টর কাজলের নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই নারীকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
.png)
ওই নারীর আগের সংসারের শাশুড়ি জানান, তার ছেলের সঙ্গে ৫ বছর আগে ওই নারীর বিচ্ছেদ হয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে যেতেন। ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। গতকাল সকালে পেটে ব্যথা নিয়ে তার বাড়িতে গেলে ডাক্তার দেখান তিনি। আজ বাচ্চা হওয়ার খবর শুনে এসেছেন। ওই নারী কোনো কথা না বলায় বাচ্চার পিতৃ পরিচয় জানা যায়নি। ওই নবজাতকের লাশ দাফন কাফনের জন্য বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
পার্বতীপুর রেল থানার (ওসি) একেএম নরুল ইসলাম বলেন, সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে থানার পুলিশ ও নারী অফিসার দিয়ে তাকে উদ্ধার করে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।