ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাতক্ষীরায় শীতবরণে তোড়জোড়

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৫:০৮, ২০ নভেম্বর ২০২৩
সাতক্ষীরায় শীতবরণে তোড়জোড়
কনকনে শীতের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা থেকে উষ্ণতার পরশ দিতে লেপ-তোশক কারিগরদের ব্যস্ততা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হেমন্তের ফসলভরা মাঠ রিক্ত হলে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় চাদরমুড়ি দিয়ে আসবে শীত। এরইমধ্যে শীতের আগমনী বার্তা পৌছে গেছে প্রকৃতির মাঝে। শীতবরণে চলছে তোড়জোড়। উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে পৌছে গেছে সূর্য। হেমন্তের পড়ন্ত বিকেল থেকে অনুভূত হচ্ছে শীত।

ঘুমাতে গেলে জড়াতে হচ্ছে কাঁথা-কম্বল। সাত সকালে ঘাসে শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীত দ্বারপ্রান্তে। পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেইদিন ফিরে আসার অপেক্ষায়। দিনে গরম, রাতে কুয়াশার শীতল হাওয়া আর ভোররাতে ঘন কুয়াশার হাতছানিই বলে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। 

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সকাল। কনকনে শীতের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা থেকে উষ্ণতার পরশ দিতে লেপ-তোশক কারিগরদের ব্যস্ততা গেছে বেড়ে। ভ্রাম্যমাণ লেপ-তোশক ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলে। গ্রামের নারীরাও শীত নিবারণের জন্য কাঁথা সেলাই করে রেখেছেন গত বর্ষায়। জেলা সদরের বিভিন্ন বাজারে বেডিং আর কটন দোকানগুলোতে দেখা মিলেছে কারিগরদের লেপ তৈরির কর্মব্যস্ততা। কারিগররা কেউ তুলো ধুনছে, কেউবা ব্যস্ত লেপ-তোশক সেলাইয়ের কাজে, কেউবা লেপে হরেকরকম ডিজাইন ফুটিয়ে তুলছেন।

Advertisement

এছাড়া লেপ-তোশক তৈরির ধুম লেগেছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে, আর কর্মব্যস্ততা ও কদর বেড়েছে লেপ-তোশক কারিগরদের। পুরাতন লেপ মেরামতের পাশাপাশি অনেকেই আগাম শীতের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন লেপ তৈরির জন্য দোকানে ভিড় করছেন।

লেপ তৈরি করতে গ্রাম থেকে আসা এক নারী বলেন, কার্পাস তুলা দিয়ে একটি লেপের অর্ডার দিয়েছি। এছাড়া একটি পুরাতন লেপ মেরামতের জন্য এনেছি। কাপড়, তুলা, মজুরিসহ সব মিলে ১৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। অন্যবারের তুলনায় লেপের মূল্য কিছুটা বেশি।

তিনি আরো বলেন, সব জিনিষের দাম যেমন বাড়ছে এটিরও বাড়বে স্বাভাবিক। সব যখন মেনে নিয়েছি এটিও তো মানতে হবে।

শহরের কদমতলা বাজারের ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন জানান, চারদিকে ডিজিটালাইজের কারণে হাতে তৈরি লেপ-তোশকের কদর অনেকটা কমে গেছে। তবুও শীত ঋতুতে এর কদর বেড়ে যায়। সঙ্গে বেড়ে যায় আমাদের ব্যস্ততা। শ্রমিক মজুরি, তুলার মূল্যসহ আনুষঙ্গিক কাঁচামালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও নিত্য প্রয়োজনী জিনিষের দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ তোশকের মূল্য গত বছরের তুলনায় ২০০-৩০০ টাকা বেশি পড়ছে। বর্তমানে একটি ৪-৫ হাত লেপের দাম ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা এবং জাজিমের দাম ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা চলছে।

এদিকে শহরের শীতকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে উঠেছে নানা ধরনের কম্বল। আকার অনুযায়ী দাম থাকলেও এ ক্ষেত্রে বড় কম্বলের দাম আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ছোট কম্বল দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। এছাড়া শিশুদের জন্য কম্বলের দাম এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া অল্প দামের কম্বলও রয়েছে মার্কেটগুলোতে, যা তিনশ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় পাচ্ছেন ক্রেতারা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!