খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় দুই হাজার ৫২৬ হেক্টর আমন, ১৬ হেক্টর সরিষা, ২ হেক্টর আলু, ৩ হেক্টর পেঁয়াজ, এক হেক্টর গম, এক হেক্টর রসুন ও ২৮ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়রা উপজেলায়।
কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের কৃষক হাবিব জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। অধিকাংশ জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হচ্ছে।
.png)
কয়রার কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, অনেকেই ২-৩ দিন আগে ধান কেটে শুকানোর জন্য রাখেন। তাদের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বহু কৃষকের ধান বাতাসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় ধান নষ্ট হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও শেষ মুহূর্তে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এটা তারা কল্পনাও করেননি।
কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর কয়রায় ১৬ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। এরমধ্যে এক হাজার হেক্টর জমির ফসল কাটা হয়েছে। দুই হাজার পাঁচশ হেক্টর জমির ধান পড়ে গেছে। আর দুই হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিলের পানি সরানোর ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি, মাটিতে পড়ে যাওয়া ধানে তেমন ক্ষতি হবে না।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস বলেন, পাইকগাছাতে কিছু জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। তবে কোনো জমিতে পানি জমে না থাকায় ক্ষতি হবে না।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, আমনে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সরিষা ক্ষেতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপ-পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে ও উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় নালা খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে আসবে।