ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, আটকা ৪ শতাধিক পর্যটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১৭, ১৬ নভেম্বর ২০২৩
সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, আটকা ৪ শতাধিক পর্যটক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে সমুদ্র বন্দরসমুহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বর্তমানে চার শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিনদ্বীপে অবস্থান করছেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দর সমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে বুধবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া গুমোট হয়েছিল। সাগর ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এ কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হবে। তখন দ্বীপে থাকা পর্যটকরা ফিরে আসতে পারবেন।

Advertisement

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেয়ারি সিন্দাবাদে ১৩২ জন, আটলান্টিকে ৮৯ ও এমভি বারো আউলিয়ায় ২৯৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে গেছেন। পরে জাহাজে করে বিকেল ৩টায় তিন শতাধিক পর্যটক ফেরত আসলেও অন্যরা দ্বীপে রয়ে গেছেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার বেড়াতে গিয়ে রাত যাপনের জন্য ছিলেন দুই শতাধিক পর্যটক। ফলে দ্বীপে এখন চার শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। বুধবার বিকেল থেকে আবহাওয়া গুমোট হয়ে আছে। সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হচ্ছে। সন্ধ্যার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।

কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. শাহ আলম ও এমভি বার আউলিয়া জাহাজের টেকনাফের ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে এ নৌপথে চারটি জাহাজ চলাচল করে। অবরোধের কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় দৈনিক তিনটি জাহাজ চলাচল করছিল। বর্তমানে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন পর্যটক পরিবহন বন্ধ রেখেছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া অধিদফতর ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ, স্পিডবোট, কাঠের বোট বা যেকোনো জলযান চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!