ঘটনাটি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়মূলনা গ্রামের। রোমান প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকার মাছ কিনে খাওয়াচ্ছে পাখিদের। পাখির সঙ্গে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রোমান ছৈয়ালের এমন বন্ধুত্বের প্রশংসা করছেন সবাই।
জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি শরীয়তপুরের বড়মুলনা এলাকা ও ১০ ফেব্রুয়ারি শৌলপাড়া এলাকার ফসলি জমিতে শরীরে ক্ষত নিয়ে ছটফট করছিল দুটি বিলুপ্ত প্রজাতির বাজপাখি। খবর পেয়ে কলেজছাত্র রোমান পাখি দুটিকে উদ্ধার করে ঠাঁই দেন তার বাড়িতে। সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন পাখি দুটিকে। প্রায় দুই মাস পর পাখি দুটি ডানা মেলে উড়তে শুরু করে। রোমান ভেবেছিলেন সুস্থ হওয়ার পর পাখি দুটি বনে ফিরে যাবে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটেছে একেবারে উল্টো। বরং তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক অসাধারণ বন্ধুত্ব। বাজপাখি দুটি যদি দূরে চলে যায় আবার রোমানের বাড়িতে ফিরে আসে।
.png)
কলেজছাত্র রোমান বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে বাজপাখি দুটি সুস্থ করে তুলেছি। তাদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই শখ করে পাখি দুটির নাম দিয়েছি ‘রাজা ও বাহাদুর’।
তিনি আরো বলেন, আগে আমাদের এলাকায় অনেক পাখি দেখতাম। এখন দেখতে পাই না। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাই না। মানুষের অবহেলার কারণে পাখি বিলুপ্তির পথে।
রোমান ছৈয়ালের মা বলেন, পাখি দুটির প্রতি আমার অনেক মায়া। নিজের সন্তানের মত দেখি পাখি দুটিকে। তাই রাজা ও বাহাদুরকে আমি তিন বেলা খাবার দেই।
রোমানের আত্মীয় ও পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, বাজপাখির প্রতি রোমানের যে ভালোবাসা তা আমাদের মুগ্ধ করে। রোমানের মত প্রতিটি মানুষের পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত।
জাজিরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সোহাগ আবদুল্লাহ বলেন, বাজপাখি দুটিকে আমরা চিকিৎসা করিয়েছি। মাঝেমধ্যে খোঁজ খবরও রাখি।
জাজিরা ইউএনও কামরুল হাসান সোহেল বলেন, স্থানীয় এক ছাত্র দুটি বাজপাখি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। বাজপাখি দুটিকে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাখি দুটি যেহেতু সুস্থ তাই শিগগিরই অবমুক্ত করা হবে।