ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাদকাসক্ত ছেলেকে ফের পুলিশে দিলেন মা

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০২, ৭ নভেম্বর ২০২৩
মাদকাসক্ত ছেলেকে ফের পুলিশে দিলেন মা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তৃতীয়বারের মতো ইমরান হোসেন লেমনকে (২৮) পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন মা রেনুকা। পরে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

লিমন জামালপুরের মাদারগঞ্জের বাণীকুঞ্জ এলাকার মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বাবা হারানো মাদকাসক্ত লেমন ২০১০ সালে বালিজুড়ি এফএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০১৩ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসে অফিস সহায়ক পদে মাস্টার রোলের আওতায় চাকরি পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদকসেবনের টাকার জন্য অফিসের জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রির অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন।

Advertisement

অপরদিকে, চাকরি হারানোর পর লেমন নতুন করে বাবুর্চির কাজ শুরু করেন। ঐ টাকা দিয়ে নিয়মিত হেরোইন সেবন করতেন। একপর্যায়ে লেমনের মা রেনেকা বেগম ২০২০ সালে তাকে পুলিশে সোপর্দ করলে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ মাস কারাভোগের পর লেমনের মা রেনেকা বেগম তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে পুনরায় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কিছুদিন আগে তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হলে তিনি ছাড়া পান। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি আবারো হেরোইন সেবন শুরু করেন। হেরোইনের টাকার জন্য ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও তার মা রেনুকা বেগমের ওপর অত্যাচার শুরু করলে নিরুপায় হয়ে তিনি আবারো পুলিশে সোপর্দ করেন।

মা রেনেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। আজকে যারা তাকে মাদকাসক্ত বানিয়েছে আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। একজন মা কতটা বাধ্য হলে তার নিজ সন্তানকে পুলিশে দেয়। আমার ছেলের মতো যেন কোনো মায়ের সন্তান না হয়।’

মাদারগঞ্জ মডেল থানার এসআই জিন্নত আলী জিন্নাহ বলেন, মাদকাসক্ত লেমনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার মা রেনুকা বেগম আমাদের শরণাপন্ন হন। তাকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও লেমনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে সম্প্রতি তিনি কারামুক্ত হয়ে পুনরায় মাদকসেবন শুরু করেন। মাদকের টাকা না পেলে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেন। তার মা রেনেকা বেগম বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকি ও মারধর করতেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!