সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ঐ বৃদ্ধার মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাঝে ঘটনার ৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই সময় আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃহ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) কনক কুমার দাস এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। পরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
.png)
আসামিরা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকা বালাগ্রাম চন্ডীহাটি এলাকার মৃত খগেশ্বরের ছেলে ও চিন্তা ঋষির জামাই মুকুল চন্দ্র রায় (৩৬) ও একই জেলার ডিমরার উত্তর সোনাখুলি এলাকার দেবদাস ঋষির ছেলে ও চিন্তা ঋষির নাতনি জামাই মহাদেব ঋষি (২৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৭ বছর আগে পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে চিন্তা ঋষির মেয়ে রেনুর সঙ্গে বিয়ে হয় মুকুলের। এর মাঝে বিষয়টি প্রকাশ পেলে রেনু মুকুলকে তালান দেন। এদিকে, রেনুর কাজের সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর মাঝে তারা দেবীগঞ্জে আসলে মুকুল বিষয়টি জানতে পারেন। আর এই পরকীয়ার জেরে রেনুকে হুমকি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশ আরো জানায়, ঐ ভিক্ষুক বৃদ্ধাকে প্রথমে গলা কেটে ও শরীরে আঘাত করে হত্যার পর মহাদেব ঋষির সহায়তায় পরিত্যক্ত রিং স্লাবের ফেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর (সোমবার) দুপুরে দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ঐ বৃদ্ধার মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে থানায় খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মীয়-স্বজনসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদে থাকা এই দুই আসামি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে নিহতের মেয়ে অভিযোগ করলে হত্যা মামলা দায়েরের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি প্রায় ক্লুলেস অবস্থায় ছিল। তারপরেও আমরা তৎপর হয়ে মাঠে নেমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসামি দু’জনকে গ্রেফতার করি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।