নিহত সাব্বির মিয়া একই এলাকার মো. সরফত আলীর ছেলে।
সোমবার বিকেলে গ্রেফতার মাসুম মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে। এর আগে মাসুম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও শিশু সাব্বিরকে অপহরণ ও হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
.png)
মাসুম পুলিশকে জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য গত ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনিসহ কয়েকজন মিলে শিশু সাব্বিরকে তার বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে। পরে তার বাড়ির সামনে একটি চিরকুট ফেলে যায় তারা। পরের দিন বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির প্রবেশপথে একটি চিরকুট পান শিশুটির মা খালেদা বেগম। চিরকুটে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও ছিল চিরকুটে। চিরকুটে টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বর দেয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা সাব্বিরকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা শেষে তার লাশ একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।
শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা পুকুরে সাব্বিরের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতেই শিশুর লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর পিতা শরাফত আলী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে গত রোববার (২২অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ খুনী মাসুমকে গ্রেফতার করে।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতার মাসুমকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে। তার দেয়া তথ্য মতেই সোমবার দুপুরে মাসুমের ছোট ভাই রুবেলকে বিশ্বরোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় চিরকুটে দেয়া মোবাইল নম্বরের মোবাইলটি রুবেলের তার থেকে উদ্ধার করা হয়।
সদর মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, আমরা সাব্বিরকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আসামিদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত মাসুম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে।