মুহাইমেন উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারের সাহেব নগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়ার ছেলে।
পেঁপে প্রচুর পুষ্টি উপাদান ফল ও সবজি হিসেবে সর্বমহলে এখন বেশ জনপ্রিয়। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ করা হতো এটি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
.png)
গত ২ মাস ধরে পেঁপে বিক্রি করছেন মুহাইমেন। কাঁচা পেঁপে থেকে পাকা পেঁপেতে ভালো লাভ হওয়ায় তিনি পাকা পেঁপে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার উপর পেঁপে বিক্রি করেছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বাগান থেকে এবার তিনি এক লাখ ৭০ হাজার টাকার উপর পেঁপে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।
মুহাইমেন ভূঁইয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই নানা রকমের ফল ও সবজি চাষের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ ছিল আমার। কিন্তু সময়ের অভাবে ভালো করে এসব চাষ করতে পারিনি। গত কয়েক বছর ধরে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৌসুম অনুযায়ী নানা প্রকারের সবজি চাষ করছি। এবারই প্রথম উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় ১০ শতক জায়গার মধ্যে পেঁপের ৭০টি গাছের চারা রোপণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, জমি তৈরি, চারা, জমির পাশ বেড়া দেওয়াসহ আবাদ করতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। চারা রোপণের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে ফলন আসে। গাছের গোড়া থেকে উপর পর্যন্ত ফলন আসে। একেকটা পেঁপে ২-৬ কেজি রয়েছে।
মুহাইমেন ভূঁইয়া বলেন, কাঁচা পেঁপের চেয়ে পাকা পেঁপে ভালো চাহিদা রয়েছে। সেইসঙ্গে বিক্রিতে ভালো লাভ হয়। প্রতিকেজি পাকা পেঁপে গড়ে ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
পেঁপে বাগান দেখতে আসা তাজুল ইসলাম ও মুশিদ মিয়া বলেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ দেখতে এখানে আসা। আসলে গাছের মধ্যে এভাবে পেঁপে আসে এই প্রথম দেখলাম। দেখে খুবই ভালো লেগেছে।
শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি বলেন, এ বাগানের পেঁপে আকাড়ে বড় এবং খুবই সুস্বাদু। প্রায় সময় এখান থেকে পেঁপে কেনা হয়। তাই আজকে বড় আকারের চারটি পেঁপে কিনলাম।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুহাইমেন একজন আদর্শ কৃষক। বাড়ি সংলগ্ন জায়গাতে মৌসুম অনুযায়ী সবসময় নানা প্রকারের সবজি ও ফল চাষ করছেন। এবার উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে এলাকায় বাজিমাত করেন। পেঁপে চাষে খরচ কম লাভ বেশি। তাই বেকার যুবকরা পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে সহজেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, পেঁপে এটি সারা বছরই উৎপাদিত হয়। পেঁপেতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কৃষকের জন্য খুবই উপযোগী একটি ফসল। কারণ বার মাসই এ ফসলটি হয়ে থাকে। পুষ্টিকর খাদ্য পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে। পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আসলেই মুহাইমেনের পেঁপে ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, তিনি বেশ লাভবান হবেন। তাছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।