মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মুন্তাসির মামুন শুভ। তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তিকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সেরেকুল ঐ গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ও শিশু বায়েজিদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাকিব হাসান ওরফে রোমানের (১৯) বাবা।
.png)
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত ৮টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ঘোড়াবান্দা চৌরাস্তা বাজারের একটি হোটেলে সেরেকুল অবস্থান করছে- এমন খবরে বালুখোলা গ্রামের সহস্রাধিক উত্তেজিত নারী-পুরুষ সেখানে গিয়ে সেরেকুলকে টেনে-হিঁচড়ে হোটেল থেকে বের করে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে সেরেকুলের মৃতপ্রায় অবস্থা হলে তারা চলে যান। পরে স্থানীয়দের খবরে পলাশবাড়ি পুলিশ এসে সেরেকুলকে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান। তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) উদয় কুমার সাহা বলেন, আমরা সেরেকুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। সেরেকুল পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে বিকেলে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা বালুখোলা গ্রামের বাড়ির উঠানে খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু বায়েজিদ। ১৩ মে সন্ধ্যায় ঐ এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে শিশু বায়েজিদের মস্তকবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে ১০ মে শিশু বায়েজিদের মা রায়হানা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে পলাশবাড়ি থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
এরপর হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় একই এলাকার সিরিকুল ইসলামের ছেলে রোমান মিয়া (১৭) ও তার বন্ধু শরিফুল ইসলামকে (১৭)। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশু বায়েজিদের বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ক্ষোভে চার বছরের শিশু বায়েজিদকে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রেমিক সাকিব হাসান ওরফে রোমান (১৯)।
পলাশবাড়ি থানার ওসি আরজু সাজ্জাত বলেন, সেরেকুল ঐ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। কিন্তু আমাদের তদন্তে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি পলাতক ছিলেন।