ইলিশ মাছ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার মধ্যরাতে থেকে ২২ দিন প্রজনন মৌসুম হিসেবে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রস্তুত রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে এই সময়ের জন্য ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা (বিজিএফ) চাল প্রদান করবে সরকার।
জানা যায়, জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকা। উপকূলীয় এলাকায় এরমধ্যে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
.png)
বুধবার সকালে সদরের মেঘনা পাড়ের জেলে পল্লী আনন্দ বাজার, তরপুরচন্ডী ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে অনেক জেলেই নৌকা ও জাল ডাঙায় উঠিয়ে রেখেছেন এবং জাল মেরামত করছেন তুলে রাখার জন্য। আবার কেউ কেউ মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে রতন ও মানিক মিয়া জানান, সরকারের অভিযান আমরা মানি।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স দিন এবং রাতে অভিযানের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালনা করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য আমরা নদী উপকূলীয় উপজেলা মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় সচেতনা সভা করেছি। জেলেরা আমাদের বলেছে,ম তারা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকবে। বিকল্প হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শেষ পর্যায়ে। আশা করি কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে জাতীয়ভাবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ২২ দিনের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে। মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচরে কোস্টগার্ডের অস্থায়ী ক্যাম্প থাকবে। ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এরমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিদের্শনা দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যেসব জেলেরা নদীতে মাছ আহরণ করবে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।