মঙ্গলবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজা মিয়ার বাড়ি সখিপুর থানার কাচিকাটা ইউনিয়নের বকাউল কান্দি গ্রামে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজার সঙ্গে মিয়া চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর গ্রামের কাঞ্চন মালার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই কাঞ্চন মালার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা চাইতেন রাজা মিয়া। কাঞ্চন মালার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে টাকাও দিয়েছে। ঘটনার আগে স্ত্রীর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন রাজা মিয়া। কাঞ্চন মালার পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২১ সালের ৬ জুন সকালে রাজা মিয়া তার স্ত্রীকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কাঞ্চন মালাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন রাজা মিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
.png)
একই বছরের ৯ জুন নিহত কাঞ্চন মালার ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে রাজা মিয়াকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নামে মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে রাজা মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত সাক্ষ্য–প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রাজা মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ কৌঁসুলি ফিরোজ আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি রাজা মিয়া কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।