ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পানে সচল সংসারের চাকা

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৭:১৯, ৮ অক্টোবর ২০২৩
পানে সচল সংসারের চাকা
পানের পরিচর্যা করছেন সঞ্জিত সুতার

ভোলার লালমোহনে পান চাষ করে ভাগ্য বদলেছে সঞ্জিত সুতার নামে এক যুবকের। গত বছর ৬০ শতাংশ জমিতে পান চাষ করে ভালো ফলন ও লাভবান হওয়ায় এ বছর বাড়িয়েছেন জমির পরিমাণ।

লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নমগ্রাম এলাকায় চলতি বছর ১২০ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছেন সঞ্জিত সুতার। তিনি ঐ এলাকার সুতার বাড়ির মনোরঞ্জনের ছেলে।

পান চাষি সঞ্জিত সুতার বলেন, ২০১৩ সালে প্রথম ৪০ শতাংশ জমিতে পানের বরজ করি। প্রথম কয়েক বছর ফলন ও লাভ একটু কম হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে পানের চাহিদা বেড়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে জমি বাড়িয়ে পানের বরজ বড় করেছি। এ বছর ১২০ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছি। যেখানে রয়েছে- হাইব্রিড, এলসি, মহানলি ও বাংলা জাতের পান।

Advertisement

তিনি বলেন, চাষ করা এসব পান জেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে বিক্রি করি। বিক্রির সময় পান তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এরমধ্যে থাকে ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পান। সে অনুযায়ী এক বিড়া পান ১০ টাকা, ১০০ টাকা এবং দুইশত টাকায় বিক্রি করি। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারি। সেখান থেকে শ্রমিক এবং ওষুধসহ অন্যান্য খরচ বাদে আয় হয় অন্তত ৩০ হাজার টাকা। শীতের সময় বাজারে পানের বেশি চাহিদা থাকে। তখন বিক্রিও বাড়ে, আয়ও বাড়ে।

সঞ্জিতের বরজের পান

সঞ্জিত সুতার আরো বলেন, পান বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাই। তবে সরকারি-বেসরকারি অনুদান পেলে পান চাষ বৃদ্ধি করা যেত। এ অনুদান পেলে আমার মতো অনেকে পান চাষে আগ্রহী হতেন। স্থানীয় অনেকের আগ্রহ থাকলেও অর্থের অভাবে পান চাষ করতে পারছেন না। আমি মনে করি; পান চাষ বৃদ্ধি পেলে এ থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে লালমোহন উপজেলার অর্থনৈতিক অবস্থা আরো উন্নত হবে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, লালমোহন উপজেলায় এ বছর ৬৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। ইউনিয়নের দিক থেকে সর্বোচ্চ পান চাষ হয়েছে লর্ডহার্ডিঞ্জ ও চরভূতা ইউনিয়নে। এ বছর লালমোহনে অন্তত এক হাজার কৃষক পান চাষ করেছেন।

লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের নমগ্রাম এলাকায় পান চাষি বেশি। কৃষি অফিস থেকে তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। পান চাষিরাও কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে কাজ করছেন। এর ফলে তারা পানের ভালো ফলন পাচ্ছেন। এতে অধিক লাভবান হচ্ছেন পান চাষিরা। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের প্রয়োজনেও কৃষি অফিস সর্বদা পাশে রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: পান লালমোহন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!