ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গাইলে প্রথম পান চাষে সফল জহিরুল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৮, ১১ জুন ২০২৩
টাঙ্গাইলে প্রথম পান চাষে সফল জহিরুল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে প্রথম পান চাষ শুরু করেছেন জহিরুল ইসলাম নামের এক কৃষক। সফলও হয়েছেন তিনি। তার সফলতা দেখে অনেকেই এখন পান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সফল কৃষক জহিরুল ইসলামন নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের মৃত সরব আলীর ছেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু নাগরপুর নয়, টাঙ্গাইল জেলার কোথাও এর আগে বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ হয়নি। তবে জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পান খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

জহিরুলের পান চাষের সফলতা দেখে এলাকার অনেকই এখন পান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারাও চিন্তা করছেন এখন পান চাষের।

Advertisement

ভাতশালা গ্রামের কবির হোসেন বলেন, জহিরুলের পান চাষ দেখে জানতে পেরেছেন অন্য অনেক ফসলের চেয়ে পান চাষ অনেক সহজ। এতে খরচ ও শ্রম অনেক কম দিতে হয়। তাই তিনি পান চাষের চিন্তা করছেন।

ওই গ্রামের আলী খান বলেন, পানের চাহিদা সারা বছর থাকে। এখন প্রমাণিত হয়েছে এ অঞ্চলে পান চাষ সম্ভব। তাই নিজের জমিতে পান চাষ শুরু করবেন তিনি। 

কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, জেলার দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি বাজারে একটি টেইলার্সে দর্জির কাজ করতেন। ওই কাজ করে তার যে আয় হতো তা দিয়ে ভালোভাবে চলতে পারতেন না তিনি। তখন থেকেই চিন্তা করতে থাকেন পাশাপাশি কিছু করার। রাজশাহী থেকে তার এক বন্ধুর ভাগনে তাদের গ্রামে বেড়াতে আসেন। বন্ধুর ওই ভাগনে বজলুর রহমানের কাছে পান চাষের বিষয় জানতে পারেন তিনি। পান চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এ কথা জানার পর রাজশাহীর দুর্গাপুর গিয়ে পান চাষ দেখে আসেন। দেখার পর উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। নিজের কয়েক শতাংশ জমি এবং পাশের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু জমি ভাড়া নেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশতিনি আরো বলেন, দেড় বছর আগে রাজশাহী থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার পানের চারা নিয়ে আসেন। ২৫ শতাংশ জমিতে চারা লাগিয়ে দেন। তারপর পাটখড়ি দিয়ে চারদিকে বেড়া ও ওপরে ছাউনি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করেন। চারা কেনা থেকে ছাউনি তৈরি ও পরিচর্যা পর্যন্ত তার খরচ হয় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৯ মাস ধরে পান তোলা শুরু করেছেন তিনি। শুরুতে নিজের এলাকায় বিভিন্ন দোকানে পান বিক্রি করতেন। এখন দিনদিন পানের উৎপাদন বাড়ছে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, ঢাকা ও রাজশাহীতেও পান পাইকারি বিক্রি করছেন তিনি। গত নয় মাসে যে পান বিক্রি করেছেন। তাতে তার বিনিয়োগ উঠে গেছে। এখন যা বিক্রি করছেন সবই তার লাভ হচ্ছে। 

জহিরুল ইসলাম আরো বলেন, আগে চিন্তায় ছিলাম। এখানে পানের উৎপাদন হবে কিনা। এখন সে চিন্তা দূর হয়ে গেছে। অন্য এলাকার মতো আমাদের এলাকাতেও পান চাষ সম্ভব। এটা প্রমাণিত হয়েছে। আর্থিক সহায়তা পেলে আরও জমি ভাড়া নিয়ে পান চাষ করতে পারবো।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, জহিরুল পান চাষ করে সফল হয়েছেন। পান অর্থকরী ফসল। কৃষি বিভাগ থেকে জহিরুলসহ আরো যারা পান চাষে এগিয়ে আসবে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: টাঙ্গাইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!