রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ ফেনীর কাজীরবাগ ইকোপার্কে বন বিভাগের সহায়তায় কাছিম গুলি বন বিভাগের পুকুরে অবমুক্ত করেন। হনুমান ২টি বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিকের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ সময় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অ্যাপস্) মো. শাহাদাৎ হোসেন, ফেনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুর রহমান, বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, ফেনী বন্য প্রাণী রিস্কিউ টিমের প্রধান সমন্বয়ক সায়মুন ফারাবি উপস্থিত ছিলেন।
.png)
পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত ১২ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কিছু সংখ্যক বন্য প্রাণী (মুখ পোড়া হনুমান) ও কাছিম নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের দিক থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছে। এ সময় পুলিশের একটি আভিযানিক দক ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী থানার লালপুল এলাকায় অবস্থান নিয়ে একটি গাড়িকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় গাড়ির মালামাল রাখার বাক্স থেকে খাঁচায় বন্দি ২টি মুখ পোড়া বিরল প্রজাতির হনুমান ও চটের বস্তার ভেতর বিপন্ন প্রজাতির ১৬টি সন্দি কাছিম উদ্ধার করে। এ সময় গাড়ির সুপার ভাইজার আহাদুজ্জামান রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। জানতে চাওয়া হলে তিনি বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণির ক্রয় বিক্রয়ের কোনো লাইসেন্স/পারমিট দেখাতে পারেন নি। এসব বন্য প্রাণী ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখা বা আমদানি রফতানি করা আইনত অপরাধ।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুর রহমান ২ টি হনুমান ও ১৬টি কাছিম (কচ্ছপ) উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। গাড়ির সুপারভাইজারকে গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে তাকে আদালতের মাধ্যেমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক জানান, ফেনীতে হনুমানের বসবাসের কোন আবাসস্থল নেই। সে কারণে হনুমান ২টি কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সেখানে বন্য প্রাণী হাসপাতালে হনুমান ২টির চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় হনুমান ২টিকে সেখানে অবমুক্ত করা হবে।